বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার জেসন গিলেস্পি সরাসরি আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণের “অসামঞ্জস্যতা” ও দ্বৈত নীতির প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফ্রিদি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি কীভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনালেও পাকিস্তান নিজেদের মাঠে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পায়নি।
এক্সে (সাবেক টুইটার) আফ্রিদি লেখেন, “একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে, যিনি বাংলাদেশে খেলেছেন এবং আইসিসি ইভেন্টেও অংশ নিয়েছেন, আইসিসির এই অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণে আমি গভীরভাবে হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে না যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ’ আইসিসি মেনে নিয়েছিল, অথচ বাংলাদেশকে সেই একই বাস্তবতায় একই সহানুভূতি দেখানো হচ্ছে না।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব ক্রিকেট পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতাই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি। “বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার। দ্বৈত মানদণ্ড নয়। আইসিসির উচিত সেতু গড়া, ভাঙন তৈরি করা নয়,” -যোগ করেন আফ্রিদি।
এই ইস্যুতে একই সুরে কথা বলেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পিও। তিনিও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন- বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে ম্যাচ খেলতে পারল না, যখন ভারতকে পাকিস্তানের বাইরে খেলতে দেওয়া হয়েছিল? যদিও পরে তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আইসিসির সঙ্গে অচলাবস্থা চলে। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কটল্যান্ডকে তাদের বদলি হিসেবে ঘোষণা করে।
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দল নয়, বরং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে- যার প্রতিধ্বনি এখন ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে।