টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি আইসিসি। বিশ্বকাপ এবার যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত ভ্রমণ বাংলাদেশের জন্য অনিরাপদ, তা বারবার বলে আসছে বাংলাদেশের সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এজন্য ক্রিকেটার, সমর্থক, সংগঠক ও সাংবাদিকদের ভারতে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না স্বাভাবিকভাবেই।
তবে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাকে ভ্রমণে সমস্যা নেই। তবুও বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশি ক্রীড়া সংবাদিকরা। এজন্য আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যাচ কাভার করার জন্য এটা জরুরি না যে ওই দেশকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেই হবে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা ম্যাচ কাভার করেছিলেন।’’
‘‘ফিফার কথাই যদি দেখেন, আমাদের দল অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু আমাদের অ্যাক্রিডিটেশন কিন্তু আসে। কারণ আমরা ফুল মেম্বার। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে আমাদেরকে বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ দিতে পারলে ভালো হতো। এটা উনাদের সিদ্ধান্ত। আমাদের কিছু বলার নেই। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদের গণমাধ্যমকে সেই সুযোগটি দেওয়া উচিত ছিল।’’
‘‘আমরা থার্ড লারজেস্ট ভিউয়ার। আমরা খেলি না খেলি আমাদের বিশাল ভিউয়ার আছে যাদের কাছে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা খবরটা এনে দেন। আইসিসি থেকে গতকাল সিদ্ধান্তটা এসেছে এবং আমরা জানতেও চেয়েছি কেন এমনটা হলো।’’ - যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে না খেলেও সাংবাদিকদের ম্যাচ কাভার করার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ খেলেনি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে চারজন রিপোর্টার বিশ্বকাপ কাভার করেছিলেন। এছাড়া ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কাভার করার ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া ফিফা, অলিম্পিক আসরে বাংলাদেশের জন্য অন্তত ১০-১৫টি অ্যাক্রিডিটেশন আসে। কিন্তু এবার যা ঘটল তা রীতিমত ভাবাচ্ছে সবাইকে।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের ক্রিকেট এমনটা বলাবলি হচ্ছিল। শুরুটা কী সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন দিয়েই হলো কিনা? আমজাদের ব্যাখ্যা, ‘‘আমরা তো বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাচ্ছি না নিরাপত্তা ইস্যুতে। এটা পার্টিকুলার ভেন্যুতে। আমরা বিশ্বকাপই খেলবো না সেটা কিন্তু কখনো বলিনি। আমাদের অনুরোধ ছিল। সেটা ফুল করা হয়নি। সেখান থেকে তাই আমরা সরে এসেছি। এর বাইরে আমার মনে হয় না আর কোনো কিছুর সঙ্গে এটা লিঙ্ক করা উচিত।’’
এদিকে আইসিসি এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে ‘অনিরাপদ’ বলাতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র সঙ্গে আলাপকালে আইসিসির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘তাদের ভিসা বা অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়া হয়নি কারণ সরকার ক্রমাগত বলে আসছিল যে ভারতে আসা নিরাপদ নয়।’’
ভারত ও শ্রীলঙ্কা এবার বিশ্বকাপ কাভারের জন্য ১৩০ জন ক্রীড়া সংবাদিক আবেদন করেছিল। ২০২৩ সালে ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই আবেদন ছিল ১৫০ জনের কাছাকাছি।