খেলাধুলা

চাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শেষ চারে বার্সেলোনা

কোপা দেল রের মঞ্চে রূপকথার মতো এগোতে থাকা আলবাসেতের যাত্রায় শেষ পর্যন্ত দাঁড়ি টানল অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রণ। তাদের বিপক্ষে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বহু সুযোগ নষ্টের পরও কঠিন লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা।

আলবাসেতের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলের জয় পায় হান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচের বড় সময়জুড়ে বল দখলে রাখলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বস্তি পায়নি সফরকারীরা।

ম্যাচের শুরুটা ছিল কিছুটা ধীরগতির। প্রথম সুযোগ আসে বার্সেলোনার পক্ষে সপ্তম মিনিটে। কিন্তু মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের শট লক্ষ্যে থাকেনি। পাল্টা আক্রমণে আলবাসেতও পরীক্ষা নেয়। তবে হোয়ান গার্সিয়া ছিলেন সতর্ক। বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থেকেও বার্সেলোনার আক্রমণে ধার ছিল না। র‍্যাশফোর্ডের একাধিক ক্রস কাজে লাগাতে পারেননি রবার্ট লেভানদোভস্কি।

৩৯ মিনিটে অবশেষে ভাঙে অচলাবস্থা। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণের সূচনা করেন র‍্যাশফোর্ড। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের পাস পেয়ে বক্সের ভেতর নিখুঁত ভলিতে দলকে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি দানি ওলমো।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই চাপ বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫৬ মিনিটে সেট–পিস থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোল। র‍্যাশফোর্ডের কর্নারে শক্ত হেডে জাল খুঁজে নেন রোনাল্ড আরাউহো। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি আলবাসেতে। একের পর এক আক্রমণে বার্সেলোনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। ৮৭ মিনিটে হাভিয়ের মোরেনোর দুর্দান্ত ডাইভিং হেডে ব্যবধান কমে আসে। তাতে ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা। যোগ করা সময়ে তো সমতা প্রায় এসেই গিয়েছিল, হোয়ান গার্সিয়ার আংশিক প্রতিরোধের পর গোললাইন থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান জেরার্দ মার্তিন।

পরিসংখ্যানেও ফুটে ওঠে বার্সেলোনার আধিপত্য। ৭৩ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখে তারা নেয় ১৭টি শট। যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। আলবাসেতে তুলনায় কম সুযোগ পেলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ সামলে জয় ধরে রাখে বার্সেলোনা। কঠিন এই জয় শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই এনে দেয়নি, বরং শিরোপা অভিযানে দলের মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা হয়ে রইল।