খেলাধুলা

ছবির আড়ালে অন্য গল্প!

বিসিবি প্রেসিডেন্ট বক্সে তীব্র মুহূর্তে দেখা গেছে রাগান্বিত অবয়বে সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদ পাইলট পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে কিছু বলছেন। ফারুক আহমেদের আঙুল সরাসরি নাজমুল ইসলামের দিকে, খালেদ মাসুদও আঙুলের ইশারায় কিছু বলছেন। 

এমন এক দৃশ্যের পেছনের কাহিনি বুঝতে অবশ্য কোনো জটিলতায় পড়তে হয়নি। বিসিবির ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। বিশেষ করে বোর্ডের বিভিন্ন কমিটি, আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের পারিশ্রমিক নিয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে বিসিবিকে। তার লাগামহীন মন্তব্যে ক্রিকেটাঙ্গন ফুঁসছে। আম্পায়ার, ক্রিকেটার এবং সাবেক সংগঠকদের অনেকে প্রকাশ্যে এবং গোপনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তবে এমন কিছু হয়নি বলে দাবি করলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। গণমাধ‌্যমে যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় দাবি করে ফেসবুকে সেই দৃশ্যের ভিডিও শেয়ার করেছেন খালেদ মাসুদ।

পোস্টে তিনি লিখেছেন: ‘‘বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। শুরুটা বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মাধ্যমে। এরপর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে খেলোয়াড়রা বিপিএলের ম্যাচও বয়কট করেন এক দিন। সে জন্য বিসিবির অর্থ কমিটির পদ হারিয়ে পুনরায় ফিরে পাওয়া এই পরিচালক তবু থামেননি। এবার তার লক্ষ্যবস্তু বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে তার সহকর্মীরাই। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে নাজমুল তোপের মুখে পড়লেন সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ এবং পরিচালক খালেদ মাসুদের।’’

এই বক্তব‌্য মিথ‌্যা দাবি করে ভিডিও বার্তায় খালেদ মাসুদ বলেছেন, ‘‘আপনারা একটা ছবি দেখেছেন, মোটামুটি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। আমি, আমার ক্যাপ্টেন ফারুক ভাই এবং নাজমুল ভাই ডিরেক্টর। তিনজন মিলে প্রেসিডেন্ট বক্সে কথা বলছিলাম। এটা নিয়ে একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে। যে ছবিটা নাজমুল ভাইকের উদ্দেশ‌্য করা হয়েছে যে, ফারুক ভাই খুব বাজেভাবে কিছু কথা বলছেন।’’

“কিন্তু আল্টিমেটলি এখানে কোনো নেগেটিভ নিউজ নেই, কিছুই ঘটেনি। ছবিটিকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যেন নাজমুল ভাইকে কিছু বলা হচ্ছে। কিন্তু দুজনই আমার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আমার বা ফারুক ভাইয়ের থেকে কখনো এমন কোনো উচ্চবাক্য বা নেতিবাচক কথা হয়নি। আমরা শুধু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম—রংপুর মাঠ, তার ফিউচার প্ল্যান, এবং যেহেতু রংপুর অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি করে, তাই তাদের জন্য কী হওয়া উচিত, তা নিয়েই কথা হচ্ছিল।”