ভিসা জটিলতার কারণে দলের সঙ্গে ভারতে যেতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিমরন হেটমায়ার। তাকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৩ রানে হেরে যাওয়া ম্যাচ, অফিসিয়াল ফটোশুট সবকিছুই মিস করেন তিনি।
শনিবার প্রথম ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন কিনা তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু সব উৎকণ্ঠা, উদ্বিগ্নতা দূর করে ম্যাচের দিন সকালে দলের সঙ্গে যোগ দেন হেটমায়ার। বেলা সাড়ে তিনটায় কলকাতার ইডেনে বিশ্বকাপের ম্যাচ।
সকালে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুপুরে মাঠে হেটমায়ার। কোনো ক্লান্তি নেই। কোনো প্রস্তুতিও নেই। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিজে গিয়েই ২২ বলে তুলে নিলেন ফিফটি। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম। সব মিলিয়ে করলেন ৩৬ বলে ৬৪ রান।
তার ৬ ছক্কা ও ২ চারে সাজানো ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮২ রান তোলে। স্কটল্যান্ড ভালো জবাব দেওয়ার পরও ১৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি। ৩৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলো সাবেক দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে রাঙান রোমারিও শেফার্ড। হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নেন তিনি। নিজের বোলিং স্পেলের তৃতীয় ওভারে পাঁচ বলে ৪ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার। ম্যাথু ক্রস, মিচেল লিস্ক ও অলিভিয়ার ডেভিডসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন রোমারিও। টি-টোয়েন্টি এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। গত অক্টোবরে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩ ওভারে ২০ রানে ৫ উইকেট পান শেফার্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুর চিত্র আর শেষটা পুরোই আলাদা। স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লে’তে ব্রেন্ডন কিং ও শেই হোপ ৩৩ রানের বেশি তুলতে পারেননি। দ্রুত রান তুলতে না পারলেও উইকেট আগলে রেখেছিলেন তারা। ১০ ওভারে রান ২ উইকেটে ৬৬।
সপ্তম ওভার শেষে শুরু হয় আক্রমণ। কিং ওই ওভারে তুলে নেন ১৭ রান। তবে দশ ওভারের আগেই দুই ওপেনার ফেরেন সাজঘরে। হোপ ২২ বলে ১৯ রান করে লিস্কের বলে বোল্ড হন। কিং ৩০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৫ রান।
তিনে নামা হেটমায়ার ক্রিজে গিয়ে পাশার দান পাল্টে দেন। আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের মানসিকতায় নেমে দ্রুত রান তোলেন। ২২ তুলে নেন ফিফটি। ২০০৯ আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন গেইল। রেকর্ডটা হেটমায়ার আজ নিজের করে নেন।
তৃতীয় উইকেটে হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েল ৩৭ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েন। ওই জুটিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান এগিয়ে যায়। রোভমান ১৪ বলে ২৪ রান করেন ১ চার ও ২ ছক্কায়। এরপর ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২৬ করেন শেফরন রাদারফোর্ড। তাতেই স্কটল্যান্ডের সামনে চলে আসে বিশাল টার্গেট। বল হাতে স্কটল্যান্ডের হয়ে ২৩ রানে ২ উইকেট নেন ব্র্যাড কারি।
লক্ষ্য তাড়ায় মিডল অর্ডারে লড়াই করে স্কটল্যান্ড। টপ অর্ডারের কেউ বিশের ঘরে যেতে পারেননি। মুনসে ১৯, জোসন ১ ও মুকেলেন ১৪ রানে আউট হন। চতুর্থ উইকেটে বেরিংটন ও ব্রুস পাল্টা জবাব দেন। ৪৭ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য হুমকি হয়ে যাচ্ছিল। সিঙ্গেল ও ডালসের পাশাপাশি বাউন্ডারিও পাচ্ছিলেন তারা। স্কোরবোর্ডও হচ্ছিল সমৃদ্ধ।
এই জুটি ভাঙার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আর বেগ পেতে হয়নি। হোল্ডারের বলে বেরিংটন সীমানায় জোসেফের হাতে ক্যাচ দিলে স্কটল্যান্ডের আশাও শেষ হয়ে যায়। ২৪ বলে ৪২ রান করেন তিনি। এছাড়া ব্রুছ ২৮ বলে করেন ৩৫ রান। শেষ দিকে শেফার্ডের হ্যাটট্রিকে স্কটল্যান্ড ৭ বল আগেই গুটিয়ে যায়। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন হেটমায়ার।
৯ ফেব্রুয়ারি স্কটল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচ ইতালির বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ ফেব্রুয়ারি খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।