সৌদি প্রো লিগে হঠাৎ করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার আবহ কেটে যেতে শুরু করেছে। দুই ম্যাচ ধরে নিজেকে দল থেকে দূরে রাখার পর অবশেষে মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি আল ফাতেহর বিপক্ষে ম্যাচেই আবার দেখা যাবে আল-নাসরের এই সুপারস্টারকে।
ঘটনার সূত্রপাত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল (পিআইএফ) কে ঘিরে। এই তহবিলই দেশটির শীর্ষ চার ক্লাবের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। রোনালদোর অভিযোগ ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালের মতো ক্লাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে আল-নাসর কাঙ্ক্ষিত সমর্থন পাচ্ছে না।
এই অসন্তোষ থেকেই তিনি আল ইত্তিহাদ ও আল রিয়াদর বিপক্ষে ম্যাচে নিজেকে স্কোয়াডের বাইরে রাখেন। ক্লাবের ভেতরে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও বেতন সংক্রান্ত জটিলতাও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।
পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার পর আলোচনায় বসে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সূত্র অনুযায়ী, পিআইএফ আল নাসরের বকেয়া আর্থিক বিষয়গুলো মিটিয়েছে এবং ক্লাবের নির্বাহী পর্যায়ে স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিয়েছে।
ফলে স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কউতিনহো এবং সিইও জোসে সেমেডো- যাদের আগে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল; আবার নিজ নিজ পদে ফিরছেন। প্রশাসনিক স্থিতি ফিরে আসায় মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো।
এই টানাপড়েনের মধ্যে সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষও একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়, কোনো খেলোয়াড় ক্লাবের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব রাখতে পারবেন না। প্রতিটি ক্লাব নিজস্ব বোর্ড ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এটাই লিগের মূল কাঠামো।
এই বার্তা অনেকের মতে ছিল পরোক্ষভাবে রোনালদোকে উদ্দেশ করে, যাতে ক্লাব ও লিগের প্রশাসনিক সীমারেখা স্পষ্ট করা যায়।
বিতর্কের মাঝেও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক ছিলেন রোনালদো। চলতি মৌসুমে তিনি ২২ ম্যাচে করেছেন ১৮ গোল। সঙ্গে রয়েছে ৩টি অ্যাসিস্ট। তার গোলই আল নাসরকে লিগ শিরোপার দৌড়ে রেখেছে।
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে আছে আল-নাসর শীর্ষে থাকা আল হিলালের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে। ফলে রোনালদোর ফেরাটা শিরোপা লড়াইয়ের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আল ফাতেহ ম্যাচেই আবার মাঠে নামবেন রোনালদো। আর সেই ম্যাচ দিয়েই হয়তো শুরু হবে আল নাসরের নতুন অধ্যায়।