খেলাধুলা

ব্যাট-বলে ক্যারিবীয় আধিপত্য, হার ইংল্যান্ডের

নেপালের বিপক্ষে জয় পেতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ভাগ্য সহায় ছিল বলেই সেদিন জয়ের হাসি হেসেছিল তারা। তবে বুধবার আর সেই ভাগ্য সঙ্গী হয়নি ইংলিশদের। ব্যাট ও বলে দাপট দেখিয়ে তাদের থামিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ১৬৬ রানে। ১৯ ওভারেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। ৩০ রানের দাপুটে জয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে নেয় শেই হোপের দল।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৭ বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। প্রথম ওভারে শেই হোপকে বোল্ড করেন জফরা আর্চার, পরের ওভারে স্যাম কারানের শিকার হন ব্রেন্ডন কিং। শুরুর বিপর্যয় সামলেও পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান তোলে ক্যারিবীয়রা, যদিও ছন্দে থাকা শিমরন হেটমায়ার (১২ বলে ২৩) ওভারটনের বলে আউট হন। ইনিংসের অর্ধেকের আগেই রোস্টন চেজও বিদায় নেন ২৯ বলে ৩৪ রান করে। ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৯ রান তুলে চাপে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো। শেষ ১০ ওভারে আসে ১১৭ রান। ঝড় তোলেন শেফরন রাদারফোর্ড—৪২ বলে ৭৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন (৭ ছক্কা, ২ চার)। জেসন হোল্ডারের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়েন তিনি; হোল্ডার ১৭ বলে ৪ ছক্কায় করেন ৩৩ রান। এর আগে রোভমান পাওয়েলের সঙ্গে রাদারফোর্ডের ৫১ রানের জুটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের শক্ত ভিত পায় ক্যারিবীয়রা।

ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ ছিলেন সবচেয়ে সফল—৪ ওভারে ১৬ রানে নেন ২ উইকেট। ওভারটন নেন ২টি, আর্চার ও কারান পান ১টি করে উইকেট।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ঝড়ো শুরু করে ইংল্যান্ড। ২ ওভারে উঠে যায় ৩১ রান; জেসন হোল্ডারের এক ওভারেই ২৪ রান তোলেন ফিল সল্ট (৩ চার, ২ ছক্কা)। তবে চতুর্থ ওভারে শেফার্ড তাকে থামালে গতি কমে যায়। ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৬৭ রান থাকলেও পরের চার ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। জস বাটলার (২১), টম ব্যান্টন (২) ও জ্যাকব বেথেল (৩৩) বিদায় নেন। ১০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৩—শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ১০৪ রান।

পঞ্চম উইকেটে হ্যারি ব্রুক ও স্যাম কারান ২৬ বলে ৪১ রানের জুটি গড়ে আশা জাগান। কিন্তু হঠাৎ ধস নামে—২০ রান তুলতেই পড়ে যায় ৪ উইকেট। ব্রুক (১৭) মোতির বলে ক্যাচ দেন, উইল জ্যাকস এলবিডব্লিউ হন চেজের বলে। আকিল হোসেন ফেরান ওভারটনকে, আর হোল্ডারের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন আর্চার।

এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান কারান। ৩০ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে ডসনের রান আউট ও শেষ ব্যাটসম্যান আদিল রশিদের সীমানায় ক্যাচে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয়ে ৩০ রানের হার মেনে নেয় ইংল্যান্ড।

গুদাকেশ মোতি ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার। ২ উইকেট পেয়েছেন চেজ। ১টি করে উইকেট পান আকিল, শেফার্ড ও জোসেফ।