টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুইশ ছড়ানো স্কোর হয়েছে পাঁচটি। ২৩তম ম্যাচ ছাড়িয়ে গেল আগের সব স্কোর। ওমানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড ৫ উইকেটে করল ২৩৫ রান। দুইদিন আগেই স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২২৫ রান করেছিল। আজ আয়ারল্যান্ড নতুন কিছু করে দেখাল।
বিশ্বকাপে আগের দুই ম্যাচে ওমানের দলীয় স্কোর যথাক্রমে ১০৩ অলআউট ও ৯ উইকেটে ১২০। ব্যাটিং এই ব্যর্থতা থেকে আজও বের হতে পারেনি তারা। সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে করে মাত্র ১৩৯ রান। তাতে আয়ারল্যান্ড পেয়েছেন ৯৬ রানের বিশাল জয়। তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের খাতা খুলল তারা।
এই ম্যাচে ওমানকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আগে ব্যাটিং, পরে বোলিং দুই বিভাগেই ওমানকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ৯৬ রানের জয় তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয়, সব মিলিয়ে তৃতীয়।
আয়ারল্যান্ডের শুরুর ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না শেষ দিকে তারা কী করতে যাচ্ছে? পাওয়ার প্লে’তে ৩ উইকেট হারিয়ে তাদের রান মাত্র ৪৭। ৬৪ রানে নেই ৪ উইকেট। সেখান থেকেই শুরু হয় আইরিশদের লড়াই। ৮ ওভারে তাদের রান ৬৭। ১৫ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৪২। শেষ ৫ ওভারে তারা তুলে নেয় ৯৩ রান।
সব মিলিয়ে স্কোরবোর্ডে রান ৫ উইকেটে ২৩৫। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে শ্রীলঙ্কা কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল। পাওয়ার হিটিংয়ে দারুণ নিদর্শন দেখায় আয়ারল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে টাকার ও ডেলানি ৫৬ বলে ১০১ রান করেন। আর ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছন্ন ৭০ রান করেন ডর্করেল ও টাকার। এজন্য তারা মাত্র ১৯ বল খরচ করেন।
আইরিশ অধিনায়ক টাকার ৫১ বলে ৯৪ রান করেন ১০ চার ও ৪ ছক্কায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন তিনি। ২০১০ সালে ক্রিস গেইল ভারতের বিপক্ষে ব্রিজটাউনে করেছিলেন ৯৮ রান। তবে আয়ারল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি টাকার খেলেছেন আজকের ম্যাচেই।
ডেনালি ৩০ বলে ৫৬ রান করেন ৩ চার ও ৪ ছক্কায়। ওমানের বোলারদের প্রতি নুন্যতম সম্মানও দেখাননি ডর্করেল। মাত্র ৯ বলে ৩৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ৩৫ রান করেন তিনি। তাতে রান চূঁড়ায় যায় আইরিশদের সংগ্রহ।
ওমানের বোলারদের হয়ে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন শাকিল আহমেদ। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শাহ ফয়সাল ও আমির কালীম।
ওমানের তিন ব্যাটসম্যান কেবল তিন অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন। ওপেনার আমীর কালিম ২৯ বলে ৫০ করেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়। হাম্মাদ মির্জা ৩৭ বলে করেন ৪৬ রান। শেষ দিকে সুফিয়ান মেহমুদ করেন ১০ রান। বাকিরা কেউ দু্ই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে স্রেফ এলোমেলো হয়ে যায় তাদের ব্যাটিং।
বল হাতে জস লিটল ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন ম্যাথু হামপ্রিস ও ব্যারি ম্যাকার্থি।
ব্যাট হাতে ঝড় তোলা অধিনায়ক টাকার পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।