মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি হবে ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ। পাকিস্তান সুপার লিগের কারণে পাকিস্তানের সফরটি হবে দুই ভাগে। মার্চে ওয়ানডে সিরিজের পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ মে মাসে। ভবিষ্যৎ সফর সূচীতে টি-টোয়েন্টি সিরিজও ছিল। তবে পরিবর্তিত সূচিতে তা বাদ হয়ে গেছে।
এই সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে। আর এই সিরিজটি হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ‘শেষ অ্যাসাইনমেন্ট।’ বিসিবির জাতীয় প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়ে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন গাজী আশরাফ। হিসেব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা তার মেয়াদ। কিন্তু বিসিবির অনুরোধে পাকিস্তান সিরিজ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ক্রিকেট থেকেই দূরে থাকবেন বলে খবর।
মঙ্গলবার দুপুরে রাইজিংবিডিকে মুঠোফোনে গাজী আশরাফ বলেছেন, ‘‘ফেব্রুয়ারিতেই আমার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর নতুন করে চুক্তি নবায়ন করার পরিকল্পনা নেই। আমি ৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ডকে জানিয়েছি। বোর্ড কিছুদিন দায়িত্ব যেতে বলেছে। বাড়তি কিছুদিন হয়তো করবো। সেটাও আলোচনা করে নিতে হবে।’’
বাড়তি কিছুদিন মানেই যে তিন-চার মাস তেমনটা নয়। এক-দুই সিরিজ। জাতীয় দলের মার্চে সিরিজের পর নিউ জিল্যান্ড এপ্রিলে আসবে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে। সেই পর্যন্ত গাজী আশরাফ থাকবেন কিনা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে তার কথায় মনে হয়েছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই বিদায় নেবেন তিনি। লম্বা সময় ধরে গাজী আশরাফ হোসেন ও হাসিবুল হোসেন শান্ত কাজ করছেন। হাসিবুল যোগ দেওয়ার আগে আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন গাজী আশরাফের সঙ্গী। জাতীয় দল ও বিসিবির আশে-পাশে থাকা প্রায় ২৫০ ক্রিকেটারদের জন্য কাজ করেছেন দুজন নির্বাচক। হান্নান সরকার দায়িত্ব ছাড়ার পর গাজী আশরাফ ও রাজ্জাক ছয় মাসের বেশি সময় কাজ করেছেন। রাজ্জাক দায়িত্ব ছাড়ায় পরে যোগ দেন হাসিবুল হোসেন।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমূল আবেদীন ফাহিম নিশ্চিত করেছেন, গাজী আশরাফ হোসেন মেয়াদ শেষে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিসিবি একসঙ্গে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে ধারণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্বাচকের দায়িত্ব ছাড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে নেবেন গাজী আশরাফ। নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে লম্বা সময় কাটাতে হবে তার। তাই চাইলেও সময় দেওয়া সম্ভব হবে না জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেন গাজী আশরাফ। তাকে নিয়োগ ছিলেন তৎকালীন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এরপর সরকার পতনের পর ফারুক আহেমদ এবং পরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মেয়াদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রধান নির্বাচক হলেও তিনি একজন বোর্ড পরিচালকের সমমর্যাদা পেয়েছেন। তার সোনালী অতীত ও হাই-প্রোফাইল ক্যারিয়ারের কথা মাথায় রেখে বেতন-ভাতা ও আনুষাঙ্গিক সকল সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি পেতেন।