টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যাওয়া গাজা উপত্যকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। গোটা শহরের পর শহর ভেঙে পড়েছে, পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, সড়ক; প্রায় সব মৌলিক অবকাঠামো ভেঙে চুরমার। খাদ্য উৎপাদন পর্যন্ত অনিশ্চিত। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করেই সামনে এল এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণা। গাজায় নির্মিত হবে ঝকঝকে এক জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম।
ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে এক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, গাজায় ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় করবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। শুধু তাই নয়, ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে গড়ে তোলা হবে একটি ফুটবল একাডেমি। পাশাপাশি ৫০টি ছোট মাঠ এবং পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণেও অর্থায়নের ঘোষণা এসেছে।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “শুধু ঘর, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তা বানালেই হবে না। আমাদের মানুষকেও গড়ে তুলতে হবে। আবেগ, আশা আর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। ফুটবল সেই কাজটাই করে।” তার ভাষায়, ফুটবল পৃথিবীর সর্বজনীন ভাষা, যা মানুষকে এক করে।
গাজায় আলাদা কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। পশ্চিম তীর ও গাজা মিলিয়ে একটি ফিলিস্তিনি দল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এখনো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবু ফিফার পরিকল্পনা বড়। তরুণ, অপেশাদার ও আঞ্চলিক স্তরে ফুটবল লিগ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় বলা হয়, “একটি বল, একটি মাঠ, আবার বিশ্বাস করার একটি কারণ।”
এই ঘোষণাটি আসে এমন এক সময়ে, যখন বিভিন্ন দেশ গাজা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ সহায়তার অঙ্গীকার করেছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠানোর কথাও উঠেছে। সেই মঞ্চেই ফুটবলকে ‘শান্তির সেতু’ হিসেবে তুলে ধরলেন ইনফান্তিনো।
সমালোচকেরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে মানুষের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোই কঠিন, সেখানে স্টেডিয়াম কি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত? আবার অনেকে বলছেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতরেও স্বপ্নের প্রয়োজন আছে। ফুটবল হয়তো পেট ভরাবে না, কিন্তু ভাঙা মন জোড়া দিতে পারে।
রাজনীতি, কূটনীতি আর ক্রীড়ার মিশেলে গাজাকে ঘিরে নতুন এক আলোচনার জন্ম হয়েছে। ধ্বংসের ভেতর দাঁড়িয়ে ফুটবল দিয়ে আশা বুনতে চায় ফিফা। এখন দেখার বিষয় এই প্রতিশ্রুতি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই একদিন গাজার আকাশে আবার শোনা যাবে দর্শকদের উল্লাস।