ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের আগামী আসরের নিলামের জন্য নাম লিখিয়েছেন প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার। এই দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
দ্য হান্ড্রেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। পাঁচটি আসর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাননি। তাই এবার মোস্তাফিজ দল পান কি না, সেটাই বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত দেড় মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি মোস্তাফিজ। ভারতীয় লিগ থেকে তাকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয় ব্যাপক বিতর্ক। উগ্র হিন্দুত্ববাদী মহল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে কলকাতার দল কাটার মাস্টারকে বাদ দেয়, এমন অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকেই বাদ পড়ে তারা।
ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে একাধিক দফা আলোচনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা তাদের সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি করাতে সক্ষম হয়।
এই প্রেক্ষাপটে দ্য হান্ড্রেডের নিলামে মোস্তাফিজের উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ছে। কারণ, প্রতিযোগিতাটির আটটি দলের মধ্যে চারটি আংশিক বা পূর্ণভাবে ভারতীয় লিগ-সংশ্লিষ্ট মালিকানায়। সানরাইজার্স লিডস, সাউদার্ন ব্রেভস, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও এমআই লন্ডন; এই চার দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে জল্পনা চলছে।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এসব মালিকানাধীন দল নিলাম থেকে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার দলে ভেড়াবে না। অথচ এবারের নিলামে অন্তত ৬৩ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন। তাদের মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও শাদাব খানের মতো তারকারাও আছেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০০৮ সালের পর থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ভারতীয় লিগে দেখা যায়নি। একই পরিস্থিতির প্রভাব দ্য হান্ড্রেডেও পড়তে পারে কি না, সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ায়, ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলো বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়েও সতর্ক থাকবে; এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মোস্তাফিজের নাম শুধু একটি নিলামের তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ক্রিকেট-অর্থনীতির সূক্ষ্ম হিসাব। এখন অপেক্ষা-মাঠের পারফরম্যান্স কি রাজনীতির দেয়াল পেরোতে পারে? নাকি দ্য হান্ড্রেডেও থেকে যাবে অনিশ্চয়তার ছায়া?