খেলাধুলা

বিসিবির আস্থার কেন্দ্র এখন আমিনুল

তখন কেবল রাজনীতিবিদ ছিলেন আমিনুল হক। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল-এর সাবেক অধিনায়ক। সেই সময়ই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ও পরিচালনা পর্ষদকে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল। নতুন সরকারের অধীনে এখন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পরও নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির নির্বাচনকে আবারও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলেন এবং জানান, “এটা (ক্রিকেট বোর্ড) নিয়ে আমরা বসব, আলোচনা করব। আমরা ভালোর দিকে যেতে চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই বিসিবি বার্তা পেয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময়ও চেয়েছিল বোর্ড। তবে কোনো কারণ না দেখিয়েই সেই বৈঠক বাতিল করেছেন আমিনুল। এদিকে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই আজ দুপুর ১টায় অনলাইনে বসছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে এতে যোগ দেবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

গত অক্টোবরে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিসিবির নির্বাচনের বড় একটি অংশ বয়কট করে, যা নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তোলে। তখন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল মন্তব্য করেছিলেন, “মাঠের ফিক্সিং বন্ধের আগে নির্বাচনের ফিক্সিং বন্ধ করুন।”

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট অঙ্গনেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তবে হঠাৎ করে বোর্ড ভেঙে দেওয়া বা আইনি জটিলতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বিসিবি আস্থা রাখছে নতুন প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের ওপর। বোর্ডের বিশ্বাস, তিনি ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রতিমন্ত্রী একজন সাবেক অধিনায়ক ও বিচক্ষণ মানুষ। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি অবশ্যই ভেবে দেখবেন—কোনটা সবচেয়ে ভালো।”

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে আসার পর অবস্থানের পরিবর্তন স্বাভাবিক, “পজিশন অনুযায়ী চিন্তাভাবনা বদলায়। দায়িত্বে থাকলে অনেক দিক বিবেচনা করতে হয়।”

এদিকে ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ। তার ভাষায়, “আইসিসির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো অবস্থায় নেই। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তারা ব্যবস্থা নিতেও পারে। সম্ভাবনাটা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট—ক্রীড়াঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আমিনুল। একসময় যিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেছিলেন, এখন তিনিই নীতিনির্ধারণী আসনে। ফলে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই নজর থাকবে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের।

বোর্ড ভাঙা, সংস্কার, না কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান—কোন পথে হাঁটবে বিসিবি, তা অনেকটাই নির্ভর করছে প্রতিমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। তবে আইনি জটিলতা ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর সম্ভাব্য অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে যে কোনো পদক্ষেপই হবে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশের। এখন দেখার বিষয়, পরিবর্তনের হাওয়া কতটা বাস্তব রূপ পায়—আর অভিভাবকের ভূমিকায় আমিনুল কতটা ভারসাম্য রেখে এগোতে পারেন।