ফুটবলজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বয়স ত্রিশ পেরোনোর পর যে কীর্তি তিনি ছুঁলেন, তা ইতিহাসে অনন্য। আল-হাজমের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের রাতে পর্তুগিজ মহাতারকা ছুঁয়ে ফেললেন ৫০০ গোলের মাইলফলক। ত্রিশের পর বয়সে এটি প্রথম ও একমাত্র নজির। ম্যাচে নিজের প্রথম গোলেই পৌঁছান পাঁচশোতে, আর দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে সংখ্যাটি দাঁড় করান পাঁচশো এক।
শনিবার রাতের ম্যাচটি ছিল একতরফা। আল-নাসরের আক্রমণভাগ শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। রোনালদোর দুটি গোল শুধু ব্যবধানই বাড়ায়নি, তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফুটবলারের ধার কমে যায়, কিন্তু রোনালদো যেন সময়কেও হার মানাচ্ছেন।
মাইলফলক ছোঁয়ার পর তার কণ্ঠে শোনা গেল গভীর আবেগ। তিনি বলেন, “আমি এখানে ভীষণ সুখী। বহুবার বলেছি, সৌদি আরব আমাকে, আমার পরিবার ও বন্ধুদের আপন করে নিয়েছে। আমি নিজেকে এই দেশেরই মানুষ মনে করি। এখানেই থাকতে চাই।”
রোনালদোর কথায় কেবল আবেগ নয়, ছিল দৃঢ় সংকল্পও। তিনি জানান, লিগ শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চান তারা। বর্তমানে আল-নাসর শীর্ষে উঠে এসেছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালকে এক পয়েন্টে পিছনে ফেলে। পাশাপাশি এশিয়ার ক্লাব প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার পর্বেও জায়গা নিশ্চিত করেছে রিয়াদের এই দল।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপের ক্লাব অধ্যায় শেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান রোনালদো। আল-নাসরে যোগ দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের একজন। তবে শিরোপা সাফল্যের দিক থেকে এখন পর্যন্ত বড় অর্জন একটি- আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ।
তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তার ধার অব্যাহত। ৫০০ গোলের মাইলফলক প্রমাণ করে, বয়স কেবল সংখ্যা; সংকল্প ও অনুশীলনই আসল শক্তি।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে রোনালদোকে ‘সর্বকালের সেরা’ বলে আখ্যা দেন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার আরেকটি দৃষ্টান্ত এটি।
আল-নাসরের লক্ষ্য এখন লিগ শিরোপা। রোনালদোর ফর্ম, দলের ছন্দ এবং শীর্ষস্থানের লড়াই- সব মিলিয়ে সৌদি লিগে উত্তেজনা তুঙ্গে।
পাঁচশো এক গোলের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে রোনালদো যেন নতুন করে ঘোষণা দিলেন- তার গল্প এখনো শেষ হয়নি। সৌদি আরবেই লিখতে চান ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়।