খেলাধুলা

কৌশলের জালে ভারত স্তব্ধ, যে ব্যতিক্রমী পরিকল্পনায় জিতল দ. আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ভারতকে ৭৬ রানে উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোরবোর্ডে ১৮৭ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু অজেয় নয়। তবু ভারত থেমে গেল ১১১ রানে। ব্যবধানটা যেমন বড়, তার চেয়েও বড় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কৌশলগত প্রাধান্য।

এই জয়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে এক অভিনব পরিকল্পনায়। বিশেষ করে অফস্পিন আর গতি কমিয়ে বল করার কৌশলে। ভারতীয় ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বল হাতে ও ফিল্ডিং সেটআপে ছিল সূক্ষ্ম হিসাব, ছিল অপ্রচলিত ভাবনা।

অফস্পিনের ফাঁদে ভারতের শুরু: ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা। ইশান কিষান চার বলে শূন্য- অফস্পিনে শেষ। এমন দৃশ্য যেন এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই অফস্পিনে উইকেট! এটাই হয়ে উঠছে এক অদ্ভুত বাস্তবতা।

ফাফ ডু প্লেসি ম্যাচের পর বিশ্লেষণে বলেন, ইশান সাধারণত অফস্পিনে দাপট দেখান। দশবার একইভাবে বল করলে সাতবার বাউন্ডারি হাঁকাবেন। কিন্তু এবার যেন ভারতের ওপর ভর করেছে এক অদৃশ্য চাপ। অফস্পিন এলেই প্রথম ওভারেই ভেঙে পড়ছে প্রতিরোধ।

এই সমস্যাই ভারতের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরো টুর্নামেন্টে।

গতি কমিয়ে বোলিং- নতুন অস্ত্র: শুধু অফস্পিন নয়, বড় পেসারদের গতি কমিয়ে বল করাও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মূল অস্ত্র। লুঙ্গি এনগিদি চার ওভারে উইকেট না পেলেও দিয়েছেন মাত্র ১৫ রান। তার অর্ধেকেরও বেশি বল ছিল গতি কমানো ডেলিভারি।

ডু প্লেসির ভাষায়, “যখন কিছু কাজ করছে, তখন সেটাকেই আঁকড়ে ধরতে হয়।” এনগিদি প্রায় টানা পাঁচটি স্লোয়ার বল করেছিলেন পাওয়ার প্লেতে। যা খুবই বিরল। কিন্তু কাজ করেছে নিখুঁতভাবে।

মার্কো জানসেন চার উইকেট তুলে নিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত ইকোনমিতে। আর কেশব মহারাজ হার্দিক পাণ্ডিয়া ও রিঙ্কু সিংকে চাপে রেখে ছন্দ ভেঙে দেন। হার্দিক ১৭ বলে করেন মাত্র ১৮। একজন ফিনিশারের জন্য যা হতাশাজনক।

সূক্ষ্ম ফিল্ডিং ও মানসিক চাপ: দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা শুধু বলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফিল্ডিং সেটআপেও ছিল ভিন্নতা। অভিষেক শর্মার বিরুদ্ধে পয়েন্ট ও কাভার অঞ্চলে বাড়তি ফিল্ডার রেখে তার স্বাভাবিক শট খেলার জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি ১২ বলে ১৫ রান করলেও চারটি শটেই এসেছে সব রান। তার বেশি এগোতে পারেননি।

ভারতীয় ব্যাটারদের প্রতিটি শক্তির বিপরীতে সাজানো হয়েছিল আলাদা ফাঁদ। কৌশল ছিল পরিষ্কার- প্রিয় জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে, নতুন ভাবতে বাধ্য করতে হবে।

ফলাফল- রুদ্ধশ্বাস জয়: সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, ব্যতিক্রমী এবং সাহসী। ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে ১১১ রানে থামানো কেবল ভালো বোলিং নয়, গভীর চিন্তার ফসল।

এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা শুধু দুই পয়েন্ট পায়নি, বার্তা দিয়েছে- মাঠে নামার আগে প্রতিটি বল, প্রতিটি ফিল্ডিং পজিশনের পেছনে ছিল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। আর সেই ‘বাক্সের বাইরে’ ভাবনাই শেষ পর্যন্ত ভারতের শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়েছে।