খেলাধুলা

বিশ্বকাপ না জিতলেও সর্বকালের সেরা রোনালদো: পর্তুগাল কোচ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মহত্ত্ব কি কেবল একটি বিশ্বকাপ ট্রফির ওপর নির্ভর করে? পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের উত্তর স্পষ্ট- না।

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আলোচনায় আবারও ফিরে এসেছে সেই চিরচেনা বিতর্ক। রোনালদো কি বিশ্বকাপ না জেতায় কিছুটা পিছিয়ে? মার্তিনেজ মনে করেন, এমন ভাবনা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রতি অবিচার।

৪১ বছর বয়সে রোনালদো প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার। ঘরোয়া লিগ, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা- সব মিলিয়ে অসংখ্য শিরোপা, পাঁচটি ব্যালন ডি’অর- তবু বিশ্বকাপ তাঁর হাতে ওঠেনি। ইতিহাসের তুলনায় এটিই যেন একমাত্র ‘খালি ঘর’। কিন্তু কোচের চোখে সেটাই রোনালদোর মূল্যায়নের মাপকাঠি নয়।

মার্তিনেজ বলেন, “সে বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক, আমার কাছে সে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।” তাঁর মতে, রোনালদোর উত্তরাধিকার গড়ে উঠেছে দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিকতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আর অবিশ্বাস্য পেশাদারিত্বে।

দৈনন্দিন অনুশীলনে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কোচ দেখেছেন এক অদম্য মানসিকতা। প্রতিটি দিনকে উন্নতির সুযোগ হিসেবে নেন তিনি। তরুণ ফুটবলারদের জন্য তিনি এক জীবন্ত পাঠ্যবই। মার্তিনেজের ভাষায়, “রোনালদো যদি চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকত, নতুনদের জন্য সেটাই হতো সবচেয়ে বড় সহায়তা।”

অনেকেই তাঁকে তুলনা করেন লিওনেল মেসির সঙ্গে, যিনি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু মার্তিনেজ মনে করেন, একটি টুর্নামেন্ট দিয়ে কারও শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করা ন্যায্য নয়। রোনালদোর প্রভাব কেবল গোল আর ট্রফিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখান।

জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে সাম্প্রতিক ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল তাঁর প্রভাবেরই প্রমাণ। মাঠে তিনি যেমন নেতা, মাঠের বাইরেও তেমনি অনুপ্রেরণা।

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ জিততে নিশ্চয়ই ঝাঁপাবে পর্তুগাল। কিন্তু মার্তিনেজের বার্তা পরিষ্কার- রোনালদোর মহত্ত্ব ইতোমধ্যেই নিশ্চিত। বিশ্বকাপ জিতলে সেটি হবে সোনায় সোহাগা; না জিতলেও তাঁর কিংবদন্তি মর্যাদায় কোনো আঁচ পড়বে না।