মোহনগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রসর। তবে খেলাধুলার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সম্ভাবনাকে বারবার থামিয়ে দিয়েছে। একটি মানসম্মত ও পরিচর্যাপ্রাপ্ত খেলার মাঠের অভাব ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে মাইলোড়া খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত ও কার্যকর অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছিল।
অবশেষে সেই স্থবিরতায় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। মাঠটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। এ উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক তামিম আহমেদ। তার আন্তরিক আবেদন ও প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন মাঠ সংস্কারের কার্যক্রম হাতে নেন।
উল্লেখ্য, মোহনগঞ্জের মেয়েরা শুধু জেলা পর্যায়েই নয়, বিভাগীয় পর্যায়েও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিল। একসময় তারা জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও ভালো অবস্থানে ছিল এবং প্রতিযোগিতায় সাফল্য এনে এলাকার সম্মান বৃদ্ধি করেছিল। একই সঙ্গে ফুটবল খেলায়ও মোহনগঞ্জের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। অতীতে স্থানীয় ফুটবলাররা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে কৃতিত্ব অর্জন করে এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন।
কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সহায়তার অভাবে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ধীরে ধীরে ঝরে পড়ছে। স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিভার অভাব নেই- অভাব সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামোর।
খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে তামিম আহমেদ বলেন, “ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। মাঠ যদি খেলার উপযোগী না থাকে, তাহলে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বিকাশ কীভাবে সম্ভব? আমাদের দাবি শুধু মাঠ সংস্কারে সীমাবদ্ধ নয়; মাঠের নিচের ফাঁকা জায়গাটিও ভরাট করে একটি ডরমিটরি নির্মাণ করা হোক, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়রা থাকার সুবিধা পায় এবং নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চ মহলের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন, যেন এই অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য মেলে ধরার যথাযথ সুযোগ পায় এবং জেলা- বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, “আমরা সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে আছি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ক্রীড়া উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, উপজেলা প্রশাসন তা করবে। খেলোয়াড়দের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাইলোড়া মাঠের সংস্কার ও প্রস্তাবিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে মোহনগঞ্জে ক্রীড়াচর্চা নতুন গতি পাবে। অতীতের গৌরব ফিরে আসবে, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাবে- এমন আশাবাদ এখন পুরো এলাকাজুড়ে।