টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং যেন এখনো নিজের ছন্দ খুঁজে পায়নি। শীর্ষ র্যাংঙ্কিংয়ে থাকা সত্ত্বেও অভিষেক শর্মার ধারাবাহিক ব্যর্থতা, তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদবের ধীরগতির ইনিংস, হার্দিক পাণ্ডিয়ার নিস্তেজ উপস্থিতি; সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছেই। তার ওপর স্পিনের বিপক্ষে ভারতের দুর্বলতা এখন আর গোপন কিছু নয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ভারতের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তনের আভাস দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। ইঙ্গিত মিলেছে, একাদশে দেখা যেতে পারে সঞ্জু স্যামসনকে।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন স্যামসন, সেটিও অভিষেক শর্মা অনুপস্থিত থাকায়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কোটাক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দল ব্যবস্থাপনা ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে নতুন করে ভাবছে। বর্তমানে ভারতের শীর্ষ আট ব্যাটারের মধ্যে ছয়জনই বাঁহাতি। সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পাণ্ডিয়া ছাড়া ডানহাতি ব্যাটার নেই বললেই চলে।
কোটাক বলেন, “সঞ্জুকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দুই ওপেনারই বাঁহাতি, তিন নম্বরও বাঁহাতি। তাই কিছু পরিবর্তন নিয়ে ভাবছি। আমরা সাধারণত আগেভাগে দল ঠিক করি না, তবে চিন্তা–ভাবনা চলছে।”
ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে দীর্ঘ সময় ব্যাট হাতে কাটিয়েছেন স্যামসন। নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাট করেছেন তিনি। অন্যদিকে অভিষেক শর্মাকে বেশি দেখা গেছে বল হাতে অনুশীলন করতে। তবে বিষয়টি কেবল একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে নেওয়ার সরল সমীকরণ নয়- এটি মূলত ভারসাম্যের প্রশ্ন।
সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা, রিঙ্কু সিংয়ের জায়গায় একাদশে ঢুকতে পারেন স্যামসন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি রিঙ্কু। তার ওপর অসুস্থ বাবার খোঁজ নিতে গিয়ে চেন্নাইয়ের অনুশীলনেও ছিলেন না তিনি। স্যামসন দলে এলে ডান-বাঁহাতির ভারসাম্য কিছুটা ফিরবে।
মধ্যক্রমে ভালো খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে স্যামসনের। প্রয়োজনে তিন নম্বরে নেমে বাঁহাতি নির্ভর শুরুর সারিতে ভাঙন ধরাতে পারেন তিনি।
চেন্নাইয়ের দর্শকরা স্যামসনকে সবসময়ই বাড়তি সমর্থন দেন। তবে আবেগের চেয়েও বড় প্রশ্ন এখন পারফরম্যান্স। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচটি শুধু জয় নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও পরীক্ষা ভারতের জন্য।