শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডির পল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ছিল আবেগের রোলারকোস্টার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের গ্রুপ দুইয়ের লড়াইয়ে পাকিস্তানকে দুই উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবে মাঠের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে গ্যালারির এক অনভিপ্রেত ঘটনা। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয় এদিন।
মধ্য বিরতির সময় আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডা থেকে দ্রুত তা শারীরিক সংঘর্ষে গড়ায়। স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের দর্শকরা হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।
ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন ‘সাউদ’ নামের এক দর্শক। অস্ট্রেলীয় এক সামাজিকমাধ্যম প্রভাবক জেক জেনিংস ভিডিওটি প্রকাশ করে দাবি করেন, এই ব্যক্তি নাকি টুর্নামেন্টজুড়ে একাধিকবার ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে স্টেডিয়াম নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।
তবে সাউদের বক্তব্য ভিন্ন। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের সমর্থকেরাই আগে অসদাচরণ করেন এবং তার দিকে বিয়ার ছুড়ে মারেন, যা তিনি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে অপমানজনক বলে দাবি করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ভিডিওটি নিয়ে সমর্থকদের আচরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
গ্যালারির ঘটনার আড়ালে মাঠে ছিল এক অনবদ্য লড়াই। আগে ব্যাট করে পাকিস্তান তোলে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান। ৪৫ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংসে দলকে টেনে নেন সাহিবজাদা ফারহান। বাবর আজম ২৫ রান করলেও ছন্দ খুঁজে পাননি। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম ডসন নেন ৩ উইকেট।
ইংল্যান্ডের রানতাড়া শুরু হয় দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই ফিল সল্টকে ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। পরে বিদায় নেন জস বাটলার ও জ্যাকব বেথেল। চাপে পড়ে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক নিজেকে তিন নম্বরে নামান। আর সেখান থেকেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
মাত্র ৫১ বলে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েন ব্রুক। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শতক। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে এগোয় ইংল্যান্ড। শেষদিকে আফ্রিদির ইয়র্কারে ব্রুক আউট হলেও লক্ষ্য থেকে তখন মাত্র কয়েক কদম দূরে দল। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩ রান; স্নায়ুচাপ সামলে জোফরা আর্চার বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শেষ করেন। ৮ উইকেটে ১৬৬ রানে পৌঁছে পাঁচ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।