খেলাধুলা

প্রোটিয়াদের তেজে ম্লান ক্যারিবীয় রং

বিশ্বকাপের শুরু থেকে অন্য রকম এক চেহারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। গতবারের রানার্সআপ প্রোটিয়ারা এবার বিশ্বকাপ জয়ের পণ করেই মনে হয় এসেছে। নয়তো প্রতিপক্ষ যে-ই আসুক তাকে স্রেফ উড়িয়ে দেবে? 

সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ভারতকে স্রেফ স্তব্ধ করেছে তারা। এবার তাদের তেজ দেখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আহমেদাবাদে তাদের যেন আটকানোই যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের কাজ করে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম ব্যাটিং ধসের পরও ৮ উইকেটে ১৭৬ রান করতে পারে। জবাব দিতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬.১ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। 

অসাধারণ, অনবদ্য, অনন্য রান তাড়া দেখতে পেল ক্রিকেট বিশ্ব। ওপেনিং জুটিতে আইডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি কক ৯৫ রানের জুটি গড়েন। অষ্টম ওভারের শেষ বলে তাদের জুটি ভাঙলে ক্রিজে আসেন রায়ান রিকেলটন। ডি কক ২৪ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৪৭ রান করে বিদায় নেন। রস্টন চেজ পান তার উইকেট। 

কক যেখানে রেখে এসেছিলেন রিকেলটন সেখান থেকেই শুরু করেন। তাকেও থামানো যায়নি ২২ গজে। ২৮ বলে ৪৫ রান করেন ৪ চার ও ২ ছক্কায়। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মার্করাম ধ্রুপদী ইনিংস উপহার দেন। ৪৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত তিনি। ৫০ বলে রিকেলটন ও মার্করামের জুটিতে আসে অবিচ্ছন্ন ৮২ রান। জয়ের জন্য আর কী চাই দক্ষিণ আফ্রিকার?  

প্রভাতের সূর্য সব সময় যেমন দিনের পূর্বাভাস দিতে পারে না ঠিক তেমনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুর ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না শেষটা কতটা রঙিন হবে। শুরুর ব্যাটিং একেবারেই ধূসর। শেষটা রঙচ্ছটা। 

ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ৮৩ রানে তাদের ৭ উইকেট নেই। শুরুর ৬ ব্যাটসম্যানের কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেননি। পরে আরো একজন থেমে যান দশের ঘরেই। ১০.২ ওভারে ৭ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৮৩। 

সেখান থেকে নাটকীয় পরিবর্তন। সপ্তম উইকেটে রোমারিও শেফার্ড ও জেসন হোল্ডার ইনিংসের খোলনলচে পাল্টে দিলেন। ৫৭ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়লেন। যেনতেন জুটি নয়, সিঙ্গেল-ডাবলসেও নয়। চার-ছক্কার সমারোহে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের জবাব দিলেন দুই বিগ হার্ডহিটার। তাতে ইনিংসের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেল। 

হোল্ডার ৩১ বলে ৪৯ রান করেন ৪ চার ও ৩ ছক্কায়। শেফার্ড ৩৭ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫২ রান করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটির দেখা পান তিনি। কিন্তু দিন শেষে তাদের বীরত্ব দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রাসনের সামনে টিকতে পারেনি। 

লুঙ্গি এনগিডি ৩০ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। রাবাদা ও বোসচ পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। 

দক্ষিণ আফ্রিকা এবার সত্যিই অন্যরূপে। ভিন্ন মেজাজে।