অনেকে বলছিলেন, সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছিলেন, আগের সেই নেইমার কি আর আছেন? উত্তর দিতে সময় নিলেন না ব্রাজিলের তারকা। ২০২৬ সালে নিজের প্রথম গোল- তাও একসঙ্গে দুটি। আর সেই জোড়া আঘাতেই লিগে প্রথম জয়ের মুখ দেখল সান্তোস।
ভিলা বেলমিরোর গ্যালারি তখন উত্তেজনায় টগবগ করছে। চতুর্থ রাউন্ডে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সান্তোস। ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তালিকার ১৩তম স্থানে দলটি। কিন্তু এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, স্বস্তিও এনে দিয়েছে কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোদাকে, যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন নেইমার। ২৫ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোলের পর গ্যালারির দিকে তাকিয়ে চুপ থাকার ইশারা- সমালোচকদের উদ্দেশেই যেন বার্তা। এরপর কর্নার পতাকার কাছে গিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আদলে নেচে উদ্যাপন, যার পেছনেও ছিল প্রতীকী বার্তা।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে সমতা ফেরায় ভাস্কো দা গামা। ৪৩ মিনিটে কাউন বারোস গোল করলে ১-১ অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৬১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন নেইমার। বক্সের ভেতর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর স্থির শটে জাল কাঁপান তিনি। ম্যাচে বল দখলে সান্তোস এগিয়ে ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ সময়, লক্ষ্যে শটে ব্যবধান ছিল ৭-৩।
চলতি বছরের শুরুতে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করেছিলেন নেইমার। প্রায় দুই মাসের পুনর্বাসনের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে ফেরেন। প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও সহায়তা করেছিলেন একটি গোল তৈরিতে। কিন্তু পরের ম্যাচে পরাজয়ের পর তাকে ঘিরে সমালোচনা চরমে ওঠে। এমনকি আসন্ন বিশ্ব আসরের প্রস্তুতি ম্যাচে জাতীয় দলে তার জায়গা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এই ম্যাচ শেষে ক্রীড়া চ্যানেল স্পোরটিভিকে নেইমার বলেন, “গত সপ্তাহে বলা হচ্ছিল, আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়। আজ দুই গোল করেছি। এটাই ফুটবল। একদিন খারাপ, পরের দিনই সবাই আবার প্রশংসা করবে।”
তিনি আরও জানান, এটি ছিল এ বছরে তার তৃতীয় ম্যাচ এবং দ্বিতীয়বার পুরো ৯০ মিনিট খেলা। শেষ দিকে পায়ে টান ধরেছিল, তবে সেটিকে তিনি পুনরুদ্ধারের স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করছেন।
ভিনিসিয়ুসের মতো উদ্যাপন প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, “ও যখন বর্ণবাদের শিকার হয়েছিল, আমি তাকে বলেছিলাম- আবার গোল করলে এভাবেই উদ্যাপন করবে। আমিও তাই করব।”
এই জয় সান্তোসকে লিগে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পথ দীর্ঘ। তবে নেইমারের ছন্দে ফেরা শুধু ক্লাব নয়, ব্রাজিল সমর্থকদেরও আশাবাদী করছে। বিশ্ব আসরের বছর সামনে রেখে তার প্রতিটি ম্যাচ এখন আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।