বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল জাতীয় দল। গুরুতর চোটে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিটকে গেছেন রদ্রিগো। ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলের আক্রমণভাগের পরিকল্পনা নিয়ে।
রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের ডান হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, পুরোপুরি সেরে উঠতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ সামনে বিশ্বকাপেও তার খেলা প্রায় অসম্ভব।
আনচেলত্তির কৌশলে রদ্রিগো ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। জাতীয় দলের বর্তমান চক্রে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা- আটটি গোল করেছেন। গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরার পর চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে।
চার-দুই-চার ছকে বাঁদিক দিয়ে খেললেও মাঝমাঠে ঢুকে বক্সে আক্রমণ তৈরির স্বাধীনতা ছিল তার। এই বহুমুখী দক্ষতাই ইতালিয়ান কোচের পরিকল্পনায় রদ্রিগোকে বিশেষ করে তুলেছিল।
রদ্রিগোর জায়গা ফাঁকা হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেইমারের নাম। খেলাধুলার ধরনে কিছু মিল থাকায় অনেকেই মনে করছেন, সেই জায়গা পূরণ করতে পারেন সান্তোসের এই তারকা।
তবে আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দলে ফেরার আগে নেইমারকে তার পূর্ণ শারীরিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুর মেনিস্কাসে অস্ত্রোপচারের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে ফেরেন নেইমার। এরপর সান্তোসের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। যদিও পাউলিস্তাও প্রতিযোগিতায় দলকে বিদায় থেকে বাঁচাতে পারেননি, তবে ব্রাজিল লিগে ভাস্কোর বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে দুটি গোল করেছেন তিনি।
রদ্রিগোর চোটে শুধু একজন খেলোয়াড়ের জায়গাই নয়, পুরো স্কোয়াডের গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের আরেকজন ফরোয়ার্ড নেওয়ার বদলে অতিরিক্ত একজন মিডফিল্ডার বা নতুন সেন্টার স্ট্রাইকার নেওয়ার কথাও ভাবছেন কোচ।
১৬ মার্চ ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণার সময়ই বোঝা যাবে আনচেলত্তি কোন পথে হাঁটছেন।
রদ্রিগোর অনুপস্থিতিতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জায়গা পেতে পারেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ে ও চিলির বিপক্ষে বাঁ প্রান্তে খেলেছিলেন তিনি। তবে মার্টিনেল্লি রদ্রিগোর মতো বহুমুখী নন; তিনি বেশি প্রচলিত উইঙ্গার।
বার্সেলোনার রাফিনহাও শক্ত বিকল্প হতে পারেন। ক্লাবের হয়ে নিয়মিত বাঁ দিকেও খেলেন, আবার দুই প্রান্ত বা মাঝেও খেলতে পারেন।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বাঁ প্রান্তে সরিয়ে নেওয়া। তবে তাতে তাকে সেই জায়গা থেকে সরাতে হবে, যেখানে আনচেলত্তির অধীনে তিনি সবচেয়ে সফল- মাঝামাঝি জায়গায় থেকে রক্ষণভাগের কাছাকাছি খেলায় প্রভাব বিস্তার করা।
সব মিলিয়ে রদ্রিগোর চোট ব্রাজিলের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই শূন্যতা পূরণে শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি কোন সমাধান বেছে নেন।