আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলুক বা না খেলুক- এ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত একটি দেশ। তার ভাষায়, “ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলে বা না নিলে- আমি সত্যিই তা নিয়ে ভাবি না। দেশটি এখন কার্যত পরাজিত অবস্থায় রয়েছে।”
আসন্ন বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠা প্রথম দলগুলোর একটি ছিল ইরান। কিন্তু এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বৈঠকে অংশ নেয়নি দেশটি। আর এই অনুপস্থিতিই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ইরান আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দল পাঠাবে কি না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর ইরান বিশ্বকাপ প্রস্তুতি কার্যক্রম কিছুটা স্থগিত করেছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাধারণত বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু এবারের আসর যেহেতু উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে, আর তারই একটি দেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান, তাই বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে তারা। শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে।
গ্রুপপর্ব শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান পায়, তাহলে ৩ জুলাই ডালাসে নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন হলে বিশ্বকাপে দল পাঠানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তার কথায়, সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্বকাপকে ঘিরে স্বাভাবিক প্রত্যাশা করা কঠিন।
ইরানের জন্য আরেকটি জটিলতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর একটি ইরান।
যদিও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দল ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, তবুও কর্মকর্তাদের বা সমর্থকদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগেও বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতা করতে হয় বিশ্ব ফুটবল কর্তৃপক্ষকে।
বিশ্বকাপ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
টাস্কফোর্সের পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, বিশ্বকাপকে নিরাপদ রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তার মতে, দলগুলো যেন খেলতে পারে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
সব মিলিয়ে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক; সবকিছু মিলিয়ে এবারকার বিশ্বকাপের আগে ইরান ইস্যু ফুটবল বিশ্বে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ইরান সত্যিই বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না।