টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে তা যেন লিখাই থাকে! নয় তো ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর কীভাবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দুই দলের মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে?
টানা তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। মজার ব্যাপার হলো, আগের দুইবারই যারা জিতেছিল, তারাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি ঘরে তুলেছিল। এবার কী ‘রীতি’ পাল্টাবে? উত্তরটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ফাইনাল পর্যন্ত। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে দুই দল মাঠে নামছে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের ভরাডুবির চিত্র ক্রিকেটপ্রেমিদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হরহামেশা। অ্যাডিলেডে ভারতকে কী লজ্জাটাই না দিয়েছিল ইংল্যান্ড! সেমিফাইনাল ম্যাচ, ফাইনালের টিকিট পাওয়ার মঞ্চ। সেই ম্যাচেই কিনা ভারতকে ১০ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড?
এটাও বিশ্বাসযোগ্য? মোহাম্মদ সামি, জসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমারদের কোনো পাত্তাই নেই। হার্দিক, অশ্বিন, অক্ষররা স্রেফ অসহায়? ২২ গজে চরম বাজে দিন গিয়েছিল ভারতের। সেই দিনটা নিশ্চয়ই দুঃস্মৃতি।
পরের আসরে অবশ্য গায়ানায় ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ভারত জবাব দেয়। ৬৮ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত পায় ফাইনালের টিকিট। পরে রোহিত-বিরাটরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে চুমু খায় স্বপ্নের শিরোপায়। ভারত জিতে নেয় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা।
এবার ওয়াংখেড়েতে কী অ্যাডিলেডের ইংল্যান্ডের স্বপ্নীল রাত ফিরবে নাকি গায়ানার ভারতের দাপট দেখা যাবে?
ভারত এর আগে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল এবং সেবারও মুম্বাইয়ের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার ইংল্যান্ডকে নিয়ে সতর্ক ভারত।
এই ম্যাচের আগে ১৯৮৭ সালের ওয়াংখেড়েতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের হিসেবও টানছেন অনেকে। সেবারও ওয়াংখেড়েতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। এবারের মতো সেটিও ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। যেখানে স্বাগতিকদের ৩৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ইংলিশরা।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ভারত। ২০০৭ থেকে মুখোমুখি ২৯ ম্যাচে ভারতের জয় ১৭টিতে। ইংল্যান্ডের ১২টিতে।
অতীত পরিসংখ্যানে চোখ নেই ভারতের। আজকের লড়াইয়ে নিজেদেরকে সেরা মনে করছেন ভারতের পেস বোলিং কোচ মর্নি মরকেল, ‘‘আমাদের দলও কিন্তু বেশ ভাল। বেশ কয়েক জন দুর্দান্ত ক্রিকেটার রয়েছে। যে কেউ দাঁড়িয়ে যেতে পারে। যে কেউ জেতাতে পারে। আশা করব, আগামী কাল সকলে সেমিফাইনালের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করবে।’’
মরকেল আরও বলেছেন, ‘‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে হবে। অনুশীলনে সকলে কঠোর পরিশ্রম করেছে। এটা ঠিক, সাফল্য নিয়ে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না। সকলের সেরা পারফরম্যান্স করার সুযোগ রয়েছে।’’
এদিকে ইংল্যান্ড অ্যাডিলেডের ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে। দলটির পেস অলরাউন্ডার স্যাম কারান বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দর্শক যে আবহ তৈরি করবে সেটা মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। এ জন্য খেলোয়াড় হিসেবে আপনি আরও বেশি শিহরণ অনুভব করবেন। এমন স্টেডিয়াম ও চিৎকারের মধ্যে খেলা দারুণ একটি ব্যাপার। ভারতের দর্শকদের চুপ রাখার মতো কাজ আমাদের করতে হবে।’’
‘‘সবাই বলছে, ইংল্যান্ড কবে নিখুঁত ম্যাচ খেলবে। সত্যি বলতে, আমরা নিখুঁত ম্যাচ খেলি বা না, সেটাকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমি স্রেফ জিততে চাই এবং আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে যেতে চাই। ম্যাচের চাপ শিশির আছে নাকি নেই সেই ভাবনায় যেতে চাই না। আগে বোলিং করলে আশা করি দারুণ করব। আগে ব্যাট করলেও বড় সংগ্রহ গড়তে পারব।’’ – যোগ করেন তিনি।
২০২২ সালে ইংল্যান্ড জিতলেও, ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় ভারত। এবার কার পালা? ফাইনালে এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে নিউ জিল্যান্ড। কারা হবে তাদের প্রতিপক্ষ? মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে দেবে সেই উত্তর। আজ রাতেই।