খেলাধুলা

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে আফিফ-নাহিদ ঢুকলেন, বাদ সোহান-জাকের

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরলেন লিটন দাস, আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। সবশেষ ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন কাজী নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলী অনিক ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামী ৮ মার্চ বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের তিন ম্যাচ।

পারফরম্যান্সের কারণে সোহান, জাকের ও শামীমকে বাদ দিয়েছেন নির্বাচকরা। হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিবের স্কোয়াডে থাকার থাকার কথা ছিল। কিন্তু হাসান মাহমুদের ডানহাতের কনুইতে চোট পাওয়ায় দলে নেই। এছাড়া তানজিম হাসান পিঠের চোটে ভুগছেন। এই মাসের শেষে দুজন সুস্থ হয়ে ফিরবেন। এ কারণে তাদের সিরিজে রাখতে পারেননি নির্বাচকরা।

বাংলাদেশ গত অক্টোবরের পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথেয়তা দিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল। লম্বা সময় পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মাঠে নামায় বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন এনেছে।

ওপেনিং বাংলাদেশের মাথা ব্যথার জায়গা। ওয়ানডেতে ভালো না করায় লিটন জায়গা হারিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে ফেরানো হয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে। তাকে দলে রাখা নিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ব্যাখ্যা, ‘‘লিটন দাসের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তবে তিনি কোচদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন নিজের খেলাকে উন্নত করতে। আমরা বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই তিনি এই ফরম্যাটে তার সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারবেন এবং মিডল অর্ডারকে শক্তিশালী করার একটি বিকল্প হিসেবে আমরা তাকে বিবেচনায় রাখছি।”

লিটনকে ওপেনিংয়ের বদলে মিডল অর্ডারে বিবেচনা করছেন নির্বাচকরা। টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনাও হয়তো ওই রকমই। তবে বিসিএলেও লিটনের ব্যাট তেমন হাসেনি। ১০, ৫৫* ও ০ রান করেন। ফাইনাল খেলতে পারেননি শারীরিক অসুস্থতরার জন্য। ওয়ানডেতে এর আগেও লিটনের মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা আছে। এবার সেই জায়গায় ফিরলে কেমন করেন সেটাই দেখার।

লিটনের মতো মিডল অর্ডারে ভরসা হিসেবে আফিফ হোসেনের কথাও ভাবছেন নির্বাচকরা। সম্প্রতি বিসিএলে এক ম্যাচে সেঞ্চুরির পর আফিফ ৪ ও ২৪ রান করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর আর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেননি আফিফ। মাঝের সময়ে ১৪টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৩৭.১৬ গড়ে তিনি করেছেন ৪৪৬ রান। বিসিএলের একশ ও গত বছরের ঢাকা লিগে এক ইনিংসে ৯৮ রান বাদে তার কোনো ফিফটিও নেই। তবুও তাকে কেন নিলেন নির্বাচকরা?

‘‘আমরা মিডল অর্ডারে বেশ কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের জায়গা ধরে রাখার মতো যথেষ্ট পারফরম্যান্স করতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সে দলের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে এবং বর্তমানে তাকে বেশ ছন্দেই মনে হচ্ছে। মাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে দলে রাখা হয়েছে এবং তার প্রতিভার সাক্ষর রাখার জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।’’ – বলেছেন গাজী আশরাফ।

নাহিদ রানার বোলিংয়ে বেশ ধার থাকলেও শরিফুল বিবর্ণ। হাসান মাহমুদ ও তানজিদের অনুপস্থিতিতে তাদের সুযোগ মিলেছে। দেখা যাক তারা সুযোগ কেমন কাজে লাগাতে পারেন। 

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম‌্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।