হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করা এবং তার বক্তব্যে করতালি দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ উঠতেই মেসির উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মেজর লিগ সকারের শিরোপা জয়ের পর ইন্টার মায়ামি ও তাদের অধিনায়ক মেসিকে সম্মান জানাতে হোয়াইট হাউসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মেসির প্রশংসা করে বলেন, “আজ এমন একটি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলতে পারেননি- লিওনেল মেসি, হোয়াইট হাউসে আপনাকে স্বাগতম।”
তিনি আরও বলেন, মেসির ওপর সবসময় প্রচণ্ড চাপ থাকে, কারণ সবাই তার কাছে জয়ের প্রত্যাশা করে। কিন্তু সেই চাপের মধ্যেও তিনি এসে শিরোপা জিতেছেন, যা সত্যিই বিরল একটি অর্জন।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মেসি। গত মৌসুমে দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি।
তবে ওই অনুষ্ঠানের শুরুতেই ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে শত্রুপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা নির্ধারিত সময়ের আগেই শত্রুপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই বক্তব্যের সময় মেসি ও ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড়রা তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য শেষে উপস্থিতদের সঙ্গে মেসিও করতালি দেন। আর সেটিই সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
অনেকেই মনে করছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যে করতালি দেওয়া একজন বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমালোচক মন্তব্য করেছেন, বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও এমন সংবেদনশীল সময়ে ক্রীড়াবিদদের আরও সতর্ক থাকা উচিত।
কেউ কেউ বলেছেন, একজন ফুটবলারের কাজ মাঠে পারফরম্যান্স দেখানো- রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হওয়া নয়।
অন্যদিকে কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কারণে মেসি ও তার সতীর্থরা অনিচ্ছাকৃতভাবেই রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।
সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এখন কেবল ক্রীড়া সম্মাননা হিসেবেই নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণ হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।