ওয়ানডে দলে নেই আব্দুল গাফফার সাকলায়েন। কিন্তু গতকাল মিরপুরে তার ৪৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংস বার্তা দিয়ে রেখেছে, ‘‘আমি প্রস্তুত আছি।’’ পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছিল, তার সমাধান হতে পারেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। তবে সামনে এজন্য বিশাল পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে জাতীয় দল বিসিএল ওয়ানডে অল স্টারস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। যেখানে প্রত্যাশামাফিক জাতীয় দলই জিতেছে। তানজিদ হাসান তামিম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। রিশাদ হোসেন পেয়েছেন ফাইফারের স্বাদ। তাতে মিলেছে স্বস্তি।
প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পরাজয়ের থেকেও মূল বিষয়টি থাকে ক্রিকেটাররা কতটা নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারছেন সেটা নিশ্চিত করে। ব্যাট-বলের সেই দাপট দেখে বোঝা গেছে, প্রস্তুতিটা বেশ জম্পেশই হয়েছে। জাতীয় দল নিয়ে গড়া বিসিবি একাদশ আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৯৫ রান করে। জবাব দিতে নেমে বিসিএল ওয়ানডে অল স্টারস ৯ উইকেটে ২৫৫ রানের বেশি করতে পারেনি।
ওপেনিংয়ে তানজিদ ১০১ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ১০০ রান করেন। রান পাননি সাইফ হাসান। ৪৭ বলে খেলে মাত্র ২২ রান করেন। সৌম্য সরকার ২২ বলে ১১ রানের বেশি করতে পারেনি। ভালো শুরুর পর শান্ত বিদায় নেন ৪০ রানে। মিডল অর্ডারে লিটনকে পাঠিয়ে পরীক্ষা নিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
এর আগেও অবশ্য এই পজিশনে খেলেছেন তিনি। বিরতি দিয়ে ফিরে একেবারে খারাপ করেননি। ৩৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় এসেছে ৪৪ রান। আফিফের ওপর বাড়তি নজর ছিল। কিন্তু বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ২৮ বলে ২৯ রানের বেশি করতে পারেননি। রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি। শেষে মিরাজের ২৪ রানে তিনশ ছুঁইছুঁই স্কোর পায় বিসিবি একাদশ।
ব্যাটসম্যানদের পর বোলাররাও ছিলেন আঁটসাঁট। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের থিতু হতে দেননি। নিয়মিত উইকেট তুলেছেন। রান আটকে রেখেছেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পেয়েছেন সাফল্যর দেখা। ৩৪তম ওভারেই অল স্টারসের ৮ উইকেট তুলে নেন জাতীয় দলের বোলাররা। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন দু্যতি ছড়িয়ে ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট পান।
সেখান থেকে নবম উইকেটে আব্দুল গাফফার ও রিপন মণ্ডল ৮০ রান যোগ করেন। যেখানে রিপনের অবদান ছিল ৩৯ রান। গাফফার চার-ছক্কার সমারোহে ভালো মানের পেস অলরাউন্ডার হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা ৪০ রানে ম্যাচ হারলেও শেষটাতে রিপন ও গাফফারের দু্যতিতে বিবিসি একাদশকে চমকে দিয়েছিল।
পাকিস্তান জাতীয় দলর আজই বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের তিন ম্যাচ।