খেলাধুলা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬ এখন শেষ প্রান্তে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ৮ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। এই ম্যাচ শুধু নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নির্ধারণ করবে না, পাশাপাশি ঠিক করবে কে পাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঙ্কের পুরস্কার অর্থ।

রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কার তহবিল: এই আসরের জন্য মোটা অঙ্কের পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৩.৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আসরের তুলনায় এবার পুরস্কার তহবিল প্রায় বিশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন, শক্তিশালী সম্প্রচার চুক্তি এবং বড় বড় স্পন্সরশিপ চুক্তির কারণে এই বিশ্বকাপে পুরস্কারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পুরস্কার: যে দল ট্রফি জিতবে, তারা পাবে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে রানার্সআপ দল পাবে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার মতো।

অর্থাৎ ভারত বা নিউ জিল্যান্ড- যে দলই জিতুক না কেন, দুই দলই বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার পাচ্ছে। তবে চ্যাম্পিয়ন দলই পাবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা।

সেমিফাইনাল ও সুপার আট দলের পুরস্কার: টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো দলগুলোর জন্যও রাখা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলো পাবে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাছাকাছি।

সুপার এইটে ওঠা প্রতিটি দল পাবে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার মতো।

এই বণ্টনের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা দলগুলোও আর্থিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছে।

গ্রুপ পর্ব থেকেই পুরস্কার: এই বিশ্বকাপে মোট বিশটি দল অংশ নিয়েছিল। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রাখা হয়েছে পুরস্কার অর্থ।

গ্রুপ পর্বে বাদ পড়া প্রতিটি দল পাবে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো।

সব মিলিয়ে এই পুরস্কার কাঠামো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এটি স্পষ্ট করে যে, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাণিজ্যিক শক্তি দিন দিন আরও বাড়ছে।

এখন সবার দৃষ্টি আহমেদাবাদের সেই মহারণের দিকে। যেখানে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড শুধু ট্রফির জন্যই নয়, বরং এই বিশাল পুরস্কার তহবিলের বড় অংশ জয়ের লক্ষ্যেও লড়বে।