টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালের ধুলো বসে যাওয়ার পর ম্যাচ বিশ্লেষণে একটি বড় কৌশলগত ভুল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর সেটা হলো নিউ জিল্যান্ডের একাদশে কোনো বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার না রাখা। অনেকের মতে, এই একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচ শুরুর আগেই ভারতের দিকে পাল্লা ভারী করে দেয়।
আহমেদাবাদের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড দলে ছিল বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার কোল ম্যাককনচি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তাকে একাদশে না রেখে অতিরিক্ত একজন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
ফলে কিউই একাদশে কার্যত কোনো মূল অফস্পিনার ছিল না। এই সিদ্ধান্ত অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষককেই বিস্মিত করে।
ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও পরে স্বীকার করেন, নিউ জিল্যান্ডের একাদশে কোনো প্রধান অফস্পিনার না দেখে তিনিও অবাক হয়েছিলেন। কারণ ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার ছিল, যাদের বিপক্ষে অফস্পিন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারত।
সবচেয়ে বড় সুবিধা পান অভিষেক শর্মা: নিউ জিল্যান্ডের এই কৌশলগত ভুলের সবচেয়ে বড় সুবিধা পান ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। অফস্পিনের বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটার ফাইনালে প্রায় পুরো সময়ই সেই ধরনের বোলিংয়ের মুখোমুখি হননি।
তিনি মাত্র ৪টি বল খেলেন আংশিক অফস্পিনার গ্লেন ফিলিপসের বিপক্ষে। এরপর নিউ জিল্যান্ড মূলত পেসারদের আক্রমণে নিয়ে আসে।
আর সেই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগান অভিষেক। তিনি পেস আক্রমণের ওপর ঝড় তোলেন এবং একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত আরেক আংশিক বোলার রাচিন রবীন্দ্র তাকে আউট করার আগেই তিনি করে ফেলেন দুর্দান্ত অর্ধশতক, যা ভারতের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেয়।
রেকর্ড গড়া সূচনা: নিউ জিল্যান্ডের এই ভুলকে পুরোপুরি কাজে লাগায় ভারত। মাত্র ৭.২ ওভারে দলীয় ১০০ রান তুলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে দ্রুততম দলীয় শতকের রেকর্ড গড়ে তারা। এই বিস্ফোরক শুরুতেই ম্যাচ কার্যত ভারতের দিকেই চলে যায়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি নিউ জিল্যান্ড।
কৌশলগত ভুলের মূল্য: ক্রিকেটে অনেক সময় ছোট একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এই ম্যাচেও ঠিক সেটিই ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কোল ম্যাককনচিকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিউ জিল্যান্ডের জন্য বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার না থাকায় ভারতের ব্যাটাররা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে খেলতে পেরেছেন। ফলে সম্ভাব্য কঠিন লড়াইয়ের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত একপেশে হয়ে যায়।