মিরপুর শের-ই-বাংলার উইকেট নিয়ে অতিথি দলের সমালোচনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত বছর পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল। মিরপুরে স্বাগতিকদের কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পর উইকেট নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন দলটির কোচ মাইক হেসন। বলেছিলেন, ‘‘আমি মনে করি এটি (উইকেট) কারও জন্যই আদর্শ নয়। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এই পিচ আন্তর্জাতিক মানের নয়। ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার জন্য ভালো ক্রিকেট উইকেটের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সময় এটি মানসম্মত নয়।”
বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাকিস্তান দল আবার এসেছে বাংলাদেশে। এবার টি-টোয়েন্টি নয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান খেলবে ওয়ানডে সিরিজ। ১১ বছর পর ওয়ানডে খেলতে পাকিস্তান দল এসেছে বাংলাদেশে। অতিথি দলের বহরে আছেন হেসনও। তবে এবার মাঠে নামার আগেই মিরপুরের উইকেটকে প্রশংসায় ভাসালেন হেসন। সোমবার দুপুরে প্রথমবার অনুশীলনে নামার আগে উইকেট খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেন পাকিস্তানের কোচ। তার সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। উইকেট দেখে তৃপ্তির ঢেকুড় তুলেছেন হেসন। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসেছে করেছেন প্রশংসা, ‘‘নিঃসন্দেহে ভালো পিচ। এখন অনেক ভালো দেখাচ্ছে এবং কভারও ভাল। কিছুটা আগে এখানে পিচ ভালো ছিল না, তবে বিপিএলে আমরা দেখেছি, পিচ অনেক উন্নত। এবার অনেক ঘাস আছে এবং ব্যাট ও বলের মধ্যে সুষম প্রতিযোগিতা হবে। দুই দলই ভালো ক্রিকেট পিচে খেলতে চায় এবং চ্যালেঞ্জ নিতে চায়। এখনের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে, সেরকম সুযোগ হবে।’’
ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে বেশ সমীহ করছেন হেসন। নিজেদের দিনে সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে বাংলাদেশ হারাতে পারে যে কাউকেই। সেই ধারণা রয়েছে তার। এজন্য নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে বললেন তিনি, ‘‘অবশ্যই আমরা (বাংলাদেশকে হারাতে) পারি। তবে আমরা বাংলাদেশকে তাদের কন্ডিশনে আমরা সম্মান করি। এবার যে পরিস্থিতি আমরা দেখছি, তা টি-টোয়েন্টি সিরিজের চেয়ে অনেক ভিন্ন। আগে যেখানে বলের উত্থান অসমান ছিল, পিচ গড়ের তুলনায় সাধারণ ছিল এবার তা অনেক ভালো দেখাচ্ছে। দুই দলকেই ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশ সম্প্রতি অনেক ৫০-ওভার ক্রিকেট খেলেছে (ঘরোয়া ক্রিকেট), তাই আমাদেরও দ্রুত এই দীর্ঘ ফরম্যাটের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’’
পাকিস্তান নিজেদের সঙ্গে এবার ৬ অনভিষিক্ত খেলোয়াড়কে নিয়ে এসেছে। পক্ষান্তরে তারা বাদ দিয়েছে বাবর আজম ও সাইম আইয়ুবকে। ইনজুরিতে নেই ফখর জামান। নিজের দল নিয়ে হেসন বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি কাউকে বিশেষভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। এটি আমাদের জন্য তরুণ প্রতিভাদের দেখার ভালো সুযোগ। আমাদের ক্যালেন্ডারে খুব কম সুযোগ আসে যাতে আমরা বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারি। উদাহরণ হিসেবে, শাহিবজাদা ফরহান, যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করেছিলেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভাল করেছেন। শামিল হোসেইনও দারুণ প্রতিভা; তিনি লিস্ট-এ ক্রিকেটে সেরা রান সংগ্রাহক। এই খেলোয়াড়রা নতুন, এবং এই সিরিজ তাদের নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ দেবে।’’