অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাজ সাদাকাত। ক্রিকেটের অলিখিত রীতি অনুযায়ী ম্যাচের পর দিনের সেরা খেলোয়াড় দলের প্রতিনিধি হয়ে আসেন সংবাদ সম্মেলনে। তার প্রতি আগ্রহটাই বেশি থাকে বলে দলের মিডিয়া ম্যানেজার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়কে পাঠান সংবাদ সম্মেলনে।
শুক্রবার মিরপুরে এমন কিছু হলো না। ব্যাটিংয়ে বিধ্বংসী ৭৫ রান ও বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেওয়া সাদাকাত আড়ালে। পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম জিলানি দ্বিতীয় ওয়ানডের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির করলেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আগাকে।
তার প্রতিও এদিন গণমাধ্যমের আগ্রহ তুঙ্গে। মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত রান আউটের নায়কই যে তিনি। তাইতো তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসতেই নাদিম জিলানি বললেন, ‘‘জানি, আজ তোমাদের অনেক প্রশ্ন…।’’ সালমানের মুখেও হাসি। গণমাধ্যমকর্মীদেরও একই অবস্থা।
মিরাজ ও সালমানের রান আউট প্রসঙ্গটাই দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। পুরো ঘটনাটা আগে জানা যাক। ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে।
মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুত গতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানকে আউট দেন।
আউট হয়ে নিজের মেজাজ হারান সালমান। মিরাজকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। লিটনও এগিয়ে এসে সালমানকে পাল্টা জবাব দেন। সালমান নিজের মেজাজ স্থির রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তার অবয়ব ছিল রাগান্বিত। ড্রেসিংরুমের আগে নিজের গ্লাভস, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। ব্যাট আঘাত করেন মাটিতে। তাকে আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে কোচ মাইক হেসনকে কথা বলতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ার মাহমুদুর রহমান মুকুলের সঙ্গে।
রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান।
কিন্তু মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেখিয়েছেন গেম অ্যাওয়ারনেস। সালমান ক্রিজের বাইরে আছেন তা বুঝে গিয়ে চতুরতা দেখিয়েছেন। যেখানে স্পিরিট অব দ্য গেমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিরই প্রশংসা করতে হবে।
কিন্তু এমন ঘটনার জন্য বাংলাদেশের স্পোর্টসম্যানশিপকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সালমান। মিরাজের জায়গায় তিনি থাকলে এমন রান আউট কখনোই করতেন না বলে দাবি তুলেছেন। সঙ্গে এ-ও বলেছেন, ওই বলে রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিতে নিতেন না।
তার কথায়, ‘‘আমি এমন একজন, যে সব সময় আইন অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু যখন এটা স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিটের বিষয় হয়, তখন এটাকেই ওপরে রাখতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক। সে যা করেছে, যদি মনে করে ঠিক, তাহলে তা–ই। কিন্তু যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, আমি হয়তো ভিন্ন কিছু করতাম, স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাকেই বেছে নিতাম।’’ ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে সালমান যোগ করেন, ‘‘ওর সঙ্গে আমার ধাক্কা লেগেছিল। ব্যাট-প্যাডের সংযোগ হয়েছিল। আমি তাকে এরপর বলটা দিতে চেয়েছিলাম। রান নেওয়ার কোনো মানসিকতা আমার ছিল না। আমি সেটাই করেছিলাম। কিন্তু তার ভাবনায় অন্য কিছু ছিল।’’
বল আটকে যাওয়ার রান নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে বল যদি লং অনে চলে যেত তাহলে কী সালমান রান নিতেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমি তার রাস্তাতেই ছিলাম। আমি সেভাবেই চিন্তা করেছি আমি রান নেব না। এটা নিশ্চিতভাবেই বলছি।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমরা আগেও এমন কিছু করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না।’’
মিরাজ যা করেছেন তা নিয়ে সালমান নিজের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বেশ সাবলীলভাবেই। তবে তার হেলমেট, গ্লাভস ছুড়ে মারাকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ হিসেবেই দেখছেন, ‘‘ওই ঘটনার পর আমার থেকে যা হয়েছে সবটাই হিট অব দ্য মোমেন্টে হয়েছে। ’’
মিরাজ কিংবা লিটনের সঙ্গে এরপর কথা হয়নি সালমানের। জানালেন, কথা শিগগিরিই হয়ে যাবে।