সচরাচর লিটন কুমার দাসকে মাঠে উত্তেজিত হতে দেখা যায় না। স্বভাবতই তিনি কম কথা বলেন। স্বস্তির পরিবেশ না পেলে চুপচাপ থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সেই লিটনেরই যখন প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, তখন সহজেই বোঝা যায় ঘটনাটির গভীরতা ঠিক কতটা।
শুক্রবার এমন কিছুই হয়েছে মিরপুর শের-ই-বাংলায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ও পাকিস্তানের সালমান আগার রান আউটকে কেন্দ্র করে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায়। অদ্ভুত রান আউট হওয়ার পর নিজের মেজাজ হারান সালমান। আঙুল ইশারা দিয়ে মিরাজের সঙ্গে কথাও বলতে দেখা যায় তাকে। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে লিটনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান সালমান।
আসলে পুরো ঘটনা মানতে না পেরে বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়ের ওপরই রাগ দেখান এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। যা পছন্দ হয়নি লিটন দাসের। পাল্টা জবাব দিলে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান এসে পরিস্থিতি সামলে নেন।
ম্যাচের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে।
মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুত গতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানকে আউট দেন।
রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের মুখে হাসি থাকেনি। ১২৮ রানে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে সিরিজে ফিরেছে সমতা। তবে সালমান আগার অদ্ভুত রান আউট নিয়ে বাংলাদেশের বার্তা পরিস্কার। লিটন ব্রডকাস্টে স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, স্পোর্টসম্যানশিপ দেখানোর কোনো সুযোগই ছিল না।
লিটন বলেছেন, ‘‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যেহেতু নিয়মে আছে আউট, তার মানে আউট। আমি কোনো দিক থেকেই দেখিনা এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হওয়ার বা অন্য কিছু। যে যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দিতেই পারে। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা আউট, তো আউট।’’