খেলাধুলা

বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডের একটি রিভিউ নিয়ে ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুলের কাছে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। ম্যাচের পর পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন ম্যাচ রেফারির রুমে গিয়ে তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। তবে ম্যাচের ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি ম্যাচ রেফারি। সোমবার দুপুরে রাইজিংবিডিকে নিয়ামুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মিরপুরে ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে আম্পায়ারের ডাকা একটি ওয়াইড বলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আসলে এলবিডব্লিউ কিংবা কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের অভিযোগ, নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমার বাইরে গিয়ে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা বাংলাদেশের রিভিউয়ের আবেদন গ্রহণ করে তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন।

পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ২ বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল। ওই সময়ে রিশাদের লেগ ব্রেক ক্রিজে পড়ে ছোবল দিয়ে যায় উইকেটের পেছনে। আম্পায়ার ওয়াইড কল করেন। কিন্তু বাংলাদেশ আবেদন করে বলটা ওয়াইড হয়নি। মুহূর্তেই ক্রিজের পাশে জড়ো হয়ে যান লিটন, শান্ত, মিরাজ, রিশাদ, তাসকিন। তাদের মধ‌্যে চলে আলোচনা। এরপর মিরাজ রিভিউ চেয়ে বসেন। আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিভিউয়ের আবেদন গ্রহণ করে তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন। ওয়াইড বলের জন‌্য রিভিউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেই। এটা চালু আছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। তাহলে বাংলাদেশ কিভাবে রিভিউ নিল? সেই প্রশ্নই অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েছিল এলবিডব্লিউর জন‌্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল তা হল, রিভিউ নিলে আম্পায়ার ওই বলের সবকিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখবেন। বল কোথায় পিচ করেছে, ইমপ‌্যাক্ট কোথায়, ব‌্যাটের স্পর্শ পেল কি না, প‌্যাডের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না এবং বল ড্রপ হয়েছে কি না। একই সঙ্গে নো বল ও ওয়াইড বল দেখা হয়।

উপস্থিত বুদ্ধিমত্তায় লেটার মার্কস পাওয়া অধিনায়ক মিরাজ কাজের কাজ করেন রিভিউ নিয়ে। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল উইকেটে ড্রপ পড়ার আগে শাহীনের ব‌্যাটে আলতো চুমু খায়। এরপর ড্রপ পড়ে টার্ণ হয়ে যায় উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে। আম্পায়ার রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত জানালে বাতিল হয়ে যায় ওয়াইড। ফলে পঞ্চম বলও ডট। তাতে বাংলাদেশের জয়ও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ বলে পাকিস্তান ৬ রান পেলেও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে ৫ রানে। কারণ শেষ বলেও পাকিস্তানের জয়ের জন‌্য ১২ রান লাগত।

রিশাদের লেগ ব্রেকে ষষ্ঠ বলেও কিছু করতে পারেননি পাকিস্তানের অধিনায়ক। উল্টো স্টাম্পড হয়ে যায়। তাতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ১১ রানের।

পাকিস্তানের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিভিউ নেওয়া হয়েছে কি না।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের সামনে রিপ্লে দৃশ্যমান হওয়ার আগেই নিতে হয়, যাতে রিপ্লে দেখে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত না হয়। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশের রিভিউ নেওয়ার আগে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বলটি ব্যাট অতিক্রম করার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। যা বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ করেছে বলে মনে করছে।

ম্যাচ শেষে প্রথমে রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে ছুটে যান মাইক হেসন। এরপর ম্যাচ রেফারির কাছে। পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মৌখিক অভিযোগ করেন।

রিভিউয়ের ঘটনা জানাতে গিয়ে ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘‘রিভিউ নেওয়ার আগে আমরা আলোচনা করেছিলাম। লিটন ও শান্ত দুজনেই বলছিল যে রিভিউটা নেওয়া যেতে পারে। যেহেতু আমাদের হাতে দুটি রিভিউ ছিল, তাই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমরা রিভিউ নিয়েছিলাম।’’