খেলাধুলা

ক্রিকেটের ময়দানে রাজনীতির বারুদ: গাভাস্কারের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় সানরাইজার্স

ক্রিকেট এবং রাজনীতি- উপমহাদেশে এই দুই মেরু যেন মাঝেমধ্যেই এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়। এবার সেই আগুনের শিখা গিয়ে লাগল ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট 'দ্য হান্ড্রেড'-এর গায়ে। পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদকে আকাশচুম্বী মূল্যে দলে ভিড়িয়ে এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে সানরাইজার্স লিডস। আর এই বিতর্কের পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার।

সানরাইজার্স লিডসের সহ-মালিক কাব্য মারান যখন প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে পাকিস্তানি এই স্পিনারকে দলে নিলেন, তখন হয়তো ভাবেননি এর রেশ এতোটা গভীরে গড়াবে। গাভাস্কার তার সাম্প্রতিক কলামে অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় এই চুক্তির নেপথ্যে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দেওয়া পারিশ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর হিসেবে তাদের সরকারের তহবিলে জমা হয়। আর সেই অর্থ পরোক্ষভাবে ব্যয় হতে পারে সমরাস্ত্র কেনায়, যা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার ক্ষত ভারত এখনো ভোলেনি। সেই সময় থেকেই ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ। গাভাস্কার মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেরিতে হলেও বিশ্ব ক্রিকেট এখন বুঝতে পারছে কেন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাথে আর্থিক লেনদেন ভারতের জন্য সংবেদনশীল। বিশেষ করে গত বছরের পেহেলগাম হামলার পর জনরোষ যে চরমে পৌঁছাবে, তা ছিল অনুমেয়।

আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার খবর চাউর হতেই ইন্টারনেটে সমালোচনার জোয়ার বয়ে যায়। ভক্তদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সানরাইজার্স লিডস কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, দলটির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় তারা। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সচল করা হলেও বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি।

ক্রিকেট কি কেবলই মাঠের খেলা, নাকি এর সাথে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সেনাবেষ্টনীর আবেগ? গাভাস্কারের এই কড়া বার্তা সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল।