প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর আনন্দই ফুটবলারের কাছে সবচেয়ে তৃপ্তির। আর সেই গোল যখন জয়ের পথ খুলে দেয়, তখন অনুভূতিটা হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। কখনো কখনো বড় ব্যবধানের জয় এনে দেয় বাড়তি উচ্ছ্বাস—ঠিক যেমনটা এখন উপভোগ করছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার নিউক্যাসেলের বিপক্ষে যেন গোলের উৎসবই করেছে তারা। প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে সাতবার, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি। অথচ প্রথম লেগে লড়াইটা ছিল ১-১ সমতায়। কে জানত, দ্বিতীয় লেগে এমন একতরফা আধিপত্য দেখা যাবে!
দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে নিউক্যাসেলকে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা।
নু্য ক্যাম্পে প্রথমার্ধ শেষেও ম্যাচের উত্তেজনা টিকে ছিল। বার্সেলোনা ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি বিন্দুমাত্র। রাফিনিয়া ও মার্ক বের্নালের গোলে বার্সেলোনা শুরুতে এগিয়ে যায়। পরে নিউ ক্যাসেল অ্যান্থনি এলাঙ্গার জোড়া গোলে সমতা ফেরায়। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে লামিন ইয়ামাল পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে নেন।
মনে হচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধের খেলা ভিন্ন মাত্রায় চলে যাবে। কিন্তু মাঠে ফিরে বার্সেলোনা যেন অন্যরূপে। চার গোল দিয়ে ম্যাচটাকে স্রেফ ফিফার গেম বানিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকরা।
ফার্মিন লোপেস ফিরেই গোল করেন। এরপর রবার্তো লেভেনডাস্কির পা থেকে আসে জোড়া গোল। নিউ ক্যাসেলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলের তারকা নিজের দ্বিতীয় গোল করে প্রতিপক্ষকে স্রেফ বিধ্বস্ত করে দেন। এই অর্ধে নিউ ক্যাসেল আর ম্যাচেই ফিরতে পারেনি। আক্রমণ চালালেও বার্সেলোনার রক্ষণদূর্গ তারা ভাঙতে পারেনি।
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে এক ম্যাচে ৭ গোল হজম করল নিউক্যাসল। ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে টটেনহামের হারের ব্যবধানও ছিল ৭-২।
শেষ আট নিশ্চিতের পর প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় থাকবে বার্সেলোনা। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ কিংবা টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হবে তারা।