২০১৯ সালে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেওয়ার সময় রিয়ান পরাগ ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল, স্বপ্নবাজ এক কিশোর। আর এখন, ২০২৬ আইপিএলে সেই পরাগই এখন রাজস্থানের অধিনায়ক। এই দায়িত্ব এর আগে পালন করেছেন শেন ওয়ার্ন, রাহুল দ্রাবিড়, শেন ওয়াটসন, স্টিভেন স্মিথ এবং সবশেষে সানজু স্যামসান।
স্যামসান ট্রেড টান্সফারে চেন্নাই সুপার কিংসে চলে যাওয়ায় রাজস্থান হারিয়েছে তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। তাইতো নবনিযুক্ত অধিনায়ক পরাগ স্যামসানকে “অপরিবর্তনীয়” বলেও বিশ্বাস করেন। তার মতে, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা যেমন নিজস্ব দলে অপূরণীয়, অপরিহার্য, স্যামসানও তেমনই একজন।
পরাগ বলেছেন, ‘‘স্যামসানের মতো খেলোয়াড়কে সরাসরি বদলি করা সম্ভব নয়—যেমন বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মাকে কোনো দলে সহজে প্রতিস্থাপন করা যায় না। তবে ব্যাটিং অর্ডারে শূন্যতা পূরণে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার মতে, ম্যাচের ছোট ছোট মুহূর্ত—টস, ব্যাটিং অর্ডার কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—সঠিকভাবে সামলাতে পারলেই ফল বদলে যেতে পারে।’’
এদিকে তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক পরাগ। আগামী সপ্তাহে ১৫ বছরে পা দেওয়া এই ওপেনারকে তিনি গণমাধ্যমের চাপ থেকে দূরে রাখতে চান। বৈভবের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ইয়াসভি জয়সয়াল। পরাগের মতে, জয়সওয়াল চাপ সামলাতে পারবে, আর বৈভবের কাজ হবে নির্ভার ক্রিকেট খেলা,
‘‘অধিনায়ক হিসেবে আমি ওকে বলব বেশি সংবাদ সম্মেলন না করতে, মিডিয়ার সঙ্গে খুব বেশি কথা না বলতে, শুধু খেলাটা উপভোগ করতে। ওকে ওর মতো ক্রিকেট খেলতে দিন। এ বছর স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ও চাপ থাকবে, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে আমি ওকে বলব জয়সওয়ালকে চাপটা নিতে দিতে। জয়সওয়াল সেটা সামলানোর জন্য বেশি সক্ষম। বৈভবের ভূমিকা হবে শুধু মাঠে নেমে খেলা, শট খেলা এবং কোনো চিন্তা না করা।"
নিজের ক্যারিয়ারের ওঠানামা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন পরাগ। সমালোচনা, ট্রল—সবকিছুই তাকে আরও পরিণত করেছে। তিনি রাজস্থানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য,
‘‘এই পথচলাটা ছিল অনেক উত্থান-পতনের, হয়তো উত্থানের চেয়ে পতনই বেশি। আমার মনে হয়, একজন কিশোর হিসেবে আমি সবকিছুই দেখেছি। একজন কিশোর যা কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে পারে, আমার মনে হয় আমি তার সবকিছুর মধ্যেই দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি যে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি, তার জন্য আমি নিজের ওপর সত্যিই গর্বিত। রাজস্থানের কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সমর্থন করেছিল। আমি কেমন ক্রিকেটার ছিলাম, তা তারা বুঝতে পেরেছিল।”