সাকিব আল হাসান-বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক ‘নেভার এন্ডিং টপিক’। তার নাম উঠলেই যেন আলোচনার নতুন দ্বার খুলে যায়। ইস্যু যদি সাকিবকে ঘিরে হয়, তাহলে আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক-সবকিছুই একসঙ্গে হাজির হয়। মাঠের পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের নানা সিদ্ধান্ত-সবকিছুই থাকে বিশ্লেষণের কেন্দ্রে।
সাকিবের ক্ষেত্রে প্রশংসা যেমন আকাশচুম্বী হয়, তেমনি তার সমালোচনাও কম নয়। কেউ তাকে দেখেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে, দলের ভরসার প্রতীক হিসেবে; আবার কেউ তার বিভিন্ন বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলে তাকে ঘিরে তৈরি হয় এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা-একদিকে উচ্ছ্বাস আর গর্ব, অন্যদিকে সমালোচনা আর বিতর্ক।
আসলে সাকিব এমন এক চরিত্র, যিনি কখনোই নির্লিপ্ত আলোচনার অংশ নন। তিনি মানেই আবেগ, মতভেদ আর উত্তেজনা। তাই বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেটে যতদিন সাকিব আছেন-বা তার প্রভাব থাকবে-ততদিন তিনি থাকবেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই, এক অনন্ত বিতর্কের নাম হয়ে।
শুধুমাত্র নির্বাচক থেকে হাবিবুল বাশার সুমন এখন নির্বাচক কমিটির প্রধান। লম্বা সময়, বিস্তৃত পথ পেরিয়ে হাবিবুল পেয়েছেন জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধানের পদ। গতকাল নতুন ভূমিকা পাকাপাকি হওয়ার পর আজ মিরপুরে হাজির হয়েছিলেন। কথা বলেছেন গণমাধ্যমে।
সেখানে অবধারিতভাবেই এসেছে সাকিবের নাম। বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় উঠছে, সাকিব বাংলাদেশে ফিরে পুনরায় জাতীয় দলের জার্সিতে খেলবেন। কিন্তু নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচক আবেগ দিয়ে চিন্তা না করে বাস্তবতার কথা শোনালেন।
সাকিব আল হাসানকে নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, সাকিব এমন একজন খেলোয়াড় যিনি দলে আসার আগে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই আসেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সাকিব যদি দলে যোগ দেন, তাহলে অবশ্যই প্রস্তুত অবস্থাতেই আসবেন এবং দলের জন্য বড় অবদান রাখবেন। কারণ তিনি একজন প্রকৃত অলরাউন্ডার, যার সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।
‘‘সাকিব প্রস্তুত হয়ে দলে আসবে। এটা এমন না যে, কাল সে ফ্রি হলে কালকেই সে খেলতে পারবে। সে খেলবে না। আমি তো জানি। ও আসলে প্রস্তুত হয়েই আসবে। সাকিবের সার্ভিস পেলে দল উপকৃত হবে। কারণ সে জেনুইন অলরাউন্ডার। তাকে নিয়ে তো কথা বলার মতো তেমন কিছু নেই। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে সেই দলের জন্য উপকারী হবে।’’
২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সাকিবকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান হাবিবুল বাশার। তার মতে, সাকিবকে শুধু একটি সিরিজের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য দলে পাওয়া জরুরি। তিনি চান, সাকিব অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে পারেন-এমন পরিকল্পনাই তাদের ভাবনায় রয়েছে। একইভাবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, ‘‘যতদিন তারা খেলবেন, ততদিন দল উপকৃত হবে।’’
দল নির্বাচন নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গে সুমন স্বীকার করেন, সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হলে সমালোচনা আসবেই। তবে তিনি নিজের বিচার-বুদ্ধির ওপরই ভরসা রাখতে চান। তার ভাষায়, সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না, ভুলও হতে পারে—তবুও তিনি নিজের বিবেচনাকেই প্রাধান্য দেবেন এবং সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই নেবেন।
আসন্ন নিউ জিল্যান্ড সিরিজে সাকিবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সময় খুব বেশি নেই এবং সাকিব বর্তমানে কতটা ম্যাচ ফিট-সেটিও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা বিবেচনা করেই দেখা হচ্ছে।’’