বিশ্বকাপের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল ইতালি। বার্গামোর মাঠে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্লে-অফের ‘পাথ এ’ ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয়ার্ধে সান্দ্রো টোনালি ও মোইজে কিনের গোলে।
শুরুটা ছিল সতর্ক। প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা না পেলেও চাপটা ছিল পুরোপুরি ইতালির দিকেই। তবে সংগঠিত রক্ষণ আর শৃঙ্খলিত খেলায় ইতালিকে আটকে রেখে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই জট খুলে যায়। ৫৬তম মিনিটে আইজ্যাক প্রাইসের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি টোনালি। জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে দেন ইতালিকে (১-০)।
গোল হজমের পর কিছুটা ভেঙে পড়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান মোইজে কিন। পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণে ত্রাস ছড়ানো এই ফরোয়ার্ড ৮০তম মিনিটে বাম পায়ের নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। পোস্ট ছুঁয়ে বল জালে ঢুকে গেলে ইতালির জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড চেষ্টা করেছে ঠিকই, কিন্তু আক্রমণে ধার ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে সৃষ্টিশীলতা আর আকাশপথে হুমকির অভাব স্পষ্ট ছিল। গড় বয়স মাত্র ২২.৫ বছরের তরুণ দলটি অভিজ্ঞ ইতালির বিপক্ষে লড়াই করেছে সাহস নিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
প্রথমার্ধে ইতালির একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক পিয়ার্স চার্লস। ফেদেরিকো দিমার্কোর শক্তিশালী শট ঠেকানো কিংবা ট্রাই হিউমের গুরুত্বপূর্ণ ব্লক; সব মিলিয়ে ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিল নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।
তবে বিরতির পর বদলে যায় চিত্র। ইতালির কোচ জেন্নারো গাত্তুসোর তাগিদে নতুন উদ্যমে মাঠে নামে দলটি। একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে, আর শেষ পর্যন্ত আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। যোগ করা সময়ে জেমি রিডের একটি প্রচেষ্টা বাইরে চলে গেলে তাদের শেষ আশাটুকুও মিলিয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, চাপে থেকেও পরিণত ফুটবল খেলেই জয় তুলে নিল ইতালি। এখন তাদের সামনে প্লে-অফ ফাইনাল। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই।