২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে দুটি টেস্ট ম্যাচ। ডারউইনের মারারা ওভালে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট ২২ অগাস্ট থেকে। দুটি টেস্টই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এবারের সফরে আর কোনো ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবশেষ টেস্ট খেলেছিল। এবার লম্বা সময় পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ার দুয়ার খুলল। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি বিরাট পাওয়া।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের বড় আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের মধ্যে অনেকেই লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বিজনেস অব স্পোর্ট- পডকাস্টে কামিন্স বলেছেন, “আমাদের কিছু খেলোয়াড় মাত্র ২০ দিনের জন্য প্রায় ৫, ০০,০০০ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ছেড়ে দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ সিরিজের ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন ইংল্যান্ডে ‘দ্য হানড্রেড’ টুর্নামেন্ট চলবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সেই প্রতিযোগিতায় খেলার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ড্রাফট থেকে অনেকেই নাম প্রত্যাহার করেছেন।
কামিন্সের উল্লেখ করা অর্থের পরিমাণ (প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড) কিছুটা বাড়িয়ে বলা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে তাদের সতীর্থ টিম ডেভিড সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড পেয়েছিলেন। তবুও কামিন্সের মূল বার্তাটা পরিষ্কার, অস্ট্রেলিয়ার অনেক টেস্ট ক্রিকেটার বড় অঙ্কের প্রস্তাব ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
জস হ্যাজেডউড, মিচেল স্টার্ক, ক্যামেরুন গ্রিন, ট্রেভিস হেড, এমন একাধিক তারকা ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলাম থেকেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন, যাতে তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকতে পারেন। আর্থিক দিক থেকে চিন্তা করলে এটি বড় ত্যাগ।
তবে প্যাট কামিন্স ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন একইভাবে থাকবে না। তার ভাষায়, “এখন আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে ভীষণ আগ্রহী, তাই তারা এসব প্রস্তাব ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতেও এমনটাই হবে এটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।”
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আয় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আয়ের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির খবর তাদের তারকারা এখনও অর্থের চেয়ে দেশের জার্সিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কামিন্সের সতর্ক বার্তা স্পষ্ট, ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ক্রিকেট ও লোভনীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের এই ভারসাম্য চিরদিন টিকবে না। পরিবর্তন আসবেই। প্রশ্ন কেবল, কখন এবং কীভাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখবে।