খেলাধুলা

মোস্তাফিজের মিতব্যয়ী বোলিংও বাঁচাতে পারল না লাহোরকে

রবিবার রাতে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিল মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত। আর তার কেন্দ্রে ছিল এক অপ্রত্যাশিত জরিমানা। শক্ত বোলিংয়ে ম্যাচে টিকে থেকেও শেষদিকে নাটকীয়ভাবে হেরে গেল লাহোর কালান্দার্স। আর করাচি তুলে নিল দারুণ এক জয়।

আগে ব্যাট করতে নেমে লাহোরের শুরুটা কখনোই স্বস্তিদায়ক ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। আব্দুল্লাহ শফিক কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও তার ২৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংস দলকে খুব দূর এগিয়ে নিতে পারেনি। মাঝপথে হাসিবুল্লাহ খান ২৮ রান এবং সিকান্দার রাজা ১৯ রান যোগ করলেও বড় স্কোরের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লাহোর থামে ১২৮ রানে।

পারভেজ হোসেন ইমন ব্যাট হাতে আরেকটি সুযোগ পেয়েও বড় কিছু করতে পারেননি। ১২ বলে ১২ রান করেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

বল হাতে করাচির বোলাররা ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। অ্যাডাম জাম্পা, মির হামজা ও মঈন আলি-তিনজনই ২টি করে উইকেট নিয়ে লাহোরের ব্যাটিংকে ছিন্নভিন্ন করে দেন।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে করাচিও শুরুতেই চাপে পড়ে। মাত্র ১০ রানে ২ ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে দারুণ সূচনা এনে দেন শাহিন আফ্রিদি। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন জেমস ভিন্স ও তার সঙ্গীরা। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে করাচি।

মাঝপথে মোস্তাফিজুর রহমান আবারও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের গতি কমিয়ে দেন তিনি। 

এক পর্যায়ে ম্যাচে আবার দোলাচল তৈরি হয়। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে করাচি। তবে খুশদিল শাহ ও আজম খানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। শেষ ওভারে করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। যা সহজ ছিল না মোটেও।

ঠিক তখনই ম্যাচে আসে নাটকীয় মোড়। বলের অবস্থা পরিবর্তনজনিত কারণে ফিল্ডিং দল লাহোরের ওপর ৫ রানের জরিমানা আরোপ করা হয়। ফলে সমীকরণ নেমে আসে ৯ রানে, যা হঠাৎ করেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।

শেষ ওভারের প্রথম বলেই খুশদিল শাহকে ফিরিয়ে দিয়ে লাহোর আশার আলো দেখালেও, পরের ব্যাটার আব্বাস আফ্রিদি টানা চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন করাচির হাতে। ৩ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।

লাহোরের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শাহিন আফ্রিদি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ভুল আর জরিমানাই শেষ পর্যন্ত তাদের হার নিশ্চিত করে দেয়।