অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ প্রতিযোগিতায় হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে দারুণ মৌসুম কাটিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নিয়ে রিশাদ আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় যৌথভাবে সপ্তম। বিদেশি স্পিনারদের মধ্যে সবার শীর্ষে রিশাদের অবস্থান।
ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন তিনি। হোবার্ট হারিকেন্সের বিগ ব্যাশ প্লেয়ার অব দা ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন। অধিনায়ক নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান ও নিখিল চৌধুরীকে পেছনে ফেলে রিশাদ এই পুরস্কার জিতেছেন। ক্রিকেট তাসমানিয়া অ্যাওয়ার্ড নাইটে বুধবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মৌসুমের সেরাদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে রিশাদের নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলতে যাওয়ার রোমাঞ্চ ছিল রিশাদের। বিশ ব্যাশ লিগ ও বিপিএল প্রায় একই সময়ে মাঠে গড়ায়। রিশাদ ঘরের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে না খেলে বিগ ব্যাশকে বেছে নেন। হোবার্ট এর আগের বছরও তাকে পেতে চেয়েছিল। কিন্তু বিসিবি থেকে ছাড় পাননি। জাতীয় দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ খেলায় ব্যস্ত ছিলেন।
এবার প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করেন তিনি। তবে তার পথ চলা এবার বেশ মসৃণ ছিল বলা যাবে না। শুরুর ম্যাচে উইকেটশূন্য। পরের ম্যাচে ২ উইকেট। এরপর ১ উইকেট। পরের দুই ম্যাচে ৫ উইকেটের পর দুই ম্যাচ একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। এরপর অবশ্য তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিয়মিত উইকেট পেয়েছেন। রান আটকে রেখেছেন। প্রতিপক্ষের জন্য হয়েছেন হুমকি। পাওয়ার প্লে’ কিংবা ডেথ ওভার অধিনায়ক যখন যেখানে কাজে লাগিয়েছেন সেখানেই নিজের শতভাগ নিবেদন দিয়ে খেলেছেন। শেষ ম্যাচে স্টিভেন স্মিথকে বোল্ড করেছেন। নিশ্চিতভাবেই স্মিথের উইকেটই তার কাছে সবচেয়ে বড়। এছাড়া গুগলি, লেগ ব্রেক, ফ্লিপার বেশ ভালোভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেছেন রিশাদ।
সাকিব আল হাসানের পর প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিগ ব্যাশে খেললেন রিশাদ। ২০১৪ সালে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুটি ও ২০১৫ সালে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেন সাকিব। প্রথমবার তিনি সুযোগ পান ইয়োহান বোথার বদলি হিসেবে আর পরের বার খেলেন আন্দ্রে রাসেলের বদলি হয়ে।
ড্রাফট থেকে সরাসরি সুযোগ পাওয়া রিশাদই প্রথম। প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করেছেন। সামনে আরো সুযোগ আসবে। সেগুলো রিশাদ দেদীপ্যমান হবেন এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়।