ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০২৫ সালের নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকার বিদ্রোহী ক্লাব ও নির্বাচন বয়কট করা সংগঠকরা। যা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে বিসিবির একাধিক পরিচালক, নির্বাচন বয়কট করা প্রার্থী, ক্লাব সংগঠক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। কিন্তু তিনি লিখিতভাবে নিজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমিটির প্রধান ও অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। আমিনুল সরাসরি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হলেও বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন।
আমিনুল ইসলামের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, এই প্রক্রিয়াকে বিচারিক তদন্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, “না, না, একটা বিষয় বুঝতে চেষ্টা করুন। আমরা কোনো বিচারিক তদন্তে বসিনি। আমি বারবার এ কথাই বলছি। যদি এটি বিচারিক তদন্ত হতো, তাহলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হতো, অভিযোগ গঠন করতে হতো এবং শুনানি পরিচালনা করতে হতো।”
আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি দেওয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে, সে বিষয়ে তাকে সুস্পষ্ট উত্তর দেওয়ার কথা। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে কেন বিসিবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেই প্রশ্নও উঠেছে। স্বাধীন তদন্ত কমিটির কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) একেএম আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে আছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।
১৫ কার্যদিবসে তাদের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কমিটির প্রধান, ‘‘কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্ধারিত ১৫ কর্মদিবসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব। আমরা এখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। তদন্ত চলমান। শেষ হলে আপনাদের জানানো হবে।”