পাকিস্তান সুপার লিগে রাওয়ালপিন্ডিজের দুর্দশা আরও গভীর হলো। মুলতান সুলতান্সের কাছে ৭ উইকেটের হারে টানা ৪ ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে দলটি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এই হারের ফলে পয়েন্ট তালিকায় আরও পিছিয়ে পড়েছে তারা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে রাওয়ালপিন্ডিজ। ইনিংসের শুরুতেই ইয়াসির খান দ্রুত বিদায় নেন। এরপর পাওয়ার প্লের মধ্যেই অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানও ফিরলে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
মাঝের দিকে কামরান গোলাম ২৪ বলে ৩৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ড্যারেল মিচেলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট ১১ বলে ২৪ রান করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। আর স্যাম বিলিংসের অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮২ রান তোলে দলটি। রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ- ৩ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে স্টিভ স্মিথের উইকেট হারালেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মুলতান। সাহিবজাদা ফারহান ও জস ফিলিপে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়ে তোলেন। ফারহান ৩৮ বলে ৬৮ এবং ফিলিপে ৩০ বলে ৫৬ রান করে ম্যাচ একপেশে করে দেন।
মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে সামান্য চাপ তৈরি হলেও শান মাসুদ ও অ্যাস্টন টার্নার সহজেই দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। ১৬.২ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুলতান।
এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় রিশাদ হোসেনের বোলিং। শুরুতে নিয়ন্ত্রিত থাকলেও পরে তিনি ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। এক ওভারে সাহিবজাদা ফারহানের কাছে টানা ৩ ছক্কাসহ ২৬ রান দেন। পরের ওভারেও মার খেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট ছাড়াই ইনিংস শেষ করেন তিনি।
যদিও মাঝের দিকে মোহাম্মদ আমির ও আমির খানের আঘাতে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল রাওয়ালপিন্ডিজ, কিন্তু রিশাদের ব্যয়বহুল ওভারগুলোতেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।
টানা ৪ হারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে রাওয়ালপিন্ডিজের সামনে। এখন ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই উন্নতি আনা ছাড়া বিকল্প নেই।