বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০২৫ সালের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শুধু তা-ই নয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
আমিনুল ইসলামের দাবি, বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গতকাল যে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে তা দিতে পারে না এবং এই কমিটি গঠন করাকে সাংবিধানিক অভ্যুত্থান হিসেবে দেখছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে নিজের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান আমিনুল। সেখানে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে যখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে তখন বোর্ডে নিজের রুমেই ছিলেন আমিনুল। এরপর দ্রুত বেরিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও মুখ খুলতে রাজী হননি।
রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন আমিনুল। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘‘বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।"
অ্যাডহক কমিটি নিয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট, ‘‘তামিম ইকবালের নেতৃত্বে 'অ্যাড-হক কমিটি' চাপিয়ে দেওয়া একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান। এই পদক্ষেপটি অবৈধ, বিসিবি গঠনতন্ত্রে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এনএসসি অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত চরম পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো নির্বাচিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এনএসসির নেই, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। 'অ্যাড-হক কমিটি' একটি অবৈধ সত্তা ।’’
‘‘আমরা এই কমিটির কর্তৃত্ব স্বীকার করি না। আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই আমরা’’, যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আমিনুল। এজন্য আইসিসির হস্তক্ষেপ ক্ষামণা করেছেন তিনি, ‘‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না।"
আমিনুল দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে তার, ‘‘হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।"