প্যারিসে একপাক্ষিক লড়াইয়ে লিভারপুলকে প্রায় কোণঠাসা করে বুধবার রাতে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এই জয় আরও বড় হতে পারত। তবে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করায় ব্যবধান বাড়েনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটেই গোলের সূচনা। দেজিরে দুয়ের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়।
এরপরও একের পর এক আক্রমণে লিভারপুলকে চাপে রাখে পিএসজি। উসমান দেম্বেলে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। আর গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচান।
বিরতির পরও একই চিত্র। আক্রমণে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেয় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোল করেন খভিচা কভারাতসখেলিয়া।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের ৭ম গোল পূর্ণ করেন তিনি এবং টানা ৪টি নকআউট ম্যাচে গোল করা প্রথম পিএসজি খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
লিভারপুলের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। পুরো ম্যাচে তারা একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। যা তাদের আক্রমণভাগের অসহায়ত্বই প্রমাণ করে।
মাঝে একবার পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পেলেও ভিডিও সহায়তায় তা বাতিল হয়ে যায়, ফলে ব্যবধান আরও বাড়েনি।
শেষদিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি পিএসজি। তবুও ২-০ ব্যবধানেই প্রথম লেগ শেষ করে তারা।
এখন ফিরতি লেগে অ্যানফিল্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে লিভারপুল। তবে ইতিহাস বলে, তারা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। ২০১৯ সালে ৩-০ পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ এখনো তাজা।
তবুও বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায়, এই টাইয়ে এগিয়ে আছে পিএসজিই। আর সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল প্যারিসের এই রাত।