খেলাধুলা

বিসিবির মসনদে পরিবর্তন: প্রস্তুতিতে, কাজে প্রভাব পড়েনি- দাবি সিমন্সের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রতিটি অঙ্গনে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। সেই হাওয়াতে দোল খায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। নাজমুল হাসান পাপনের জায়গায় বিসিবি মসনদে বসেন ফারুক আহমেদ। বসেই তিনি ছাঁটাই করেন ‘পুরোনো শত্রু’ হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে। তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয় ফিল সিমন্সকে। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোচ সিমন্সের সর্বশেষ জাতীয় দল ছিল পাপুয়া নিউগিনি। জাতীয় দলের বাইরে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। শুরুতে দুই বছরের জন্য  নিয়োগ হলেও গত বছর তার চুক্তি বাড়ে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের দায়িত্ব তার কাঁধেই।

তবে সিমন্সকে যারা নিয়োগ দিয়েছিল, পরে চুক্তিও বাড়িয়েছিল তারা কেউই এখন বিসিবির দায়িত্বে নেই। ফারুক আহমেদের বিদায়ের পর আমিনুল ইসলাম ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হন। শুরুতে স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পান। পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আসেন বোর্ডে। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর আমিনুলকেও হারাতে হয়েছে গদি। মিউজিক্যাল চেয়ারের মতোই বিসিবির হট সিট এখন তামিম ইকবালের দখলে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিম এখন বিসিবির মসনদে। দুই বছরে তিন সভাপতির অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়ে যাচ্ছে সিমন্সের।

নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে জীবনের সঙ্গে মেলালেন তিনি, ‘‘এখন আর জীবনে কোনো কিছুতেই আমি অবাক হই না। এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যাপার না, জীবনের ব্যাপার। আমি এত কিছু দেখেছি যে জানি প্রতিদিনই নানা কিছু ঘটে। তাই আমি অবাক হইনি।’’

নিউ জিল্যান্ডকে ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদে আবার পরিবর্তন আসায় প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই উত্তর দিয়েছেন প্রধান কোচ, ‘‘এটা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, কিন্তু এতে আমার কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমরা যেভাবে দল প্রস্তুত করি, সেই কাজেই আছি। কোচিং গ্রুপ হিসেবে আমাদের কাজের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা তো হেড কোচ হিসেবে আসছেন না। তাই আমি আমার কাজই চালিয়ে যাই। আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, সেটাই করছি। উল্লেখ করতে চাই, কেউ এসে আমাদের পরিকল্পনা বদলানোর চেষ্টা করেনি। আমরা যেটা শুরু করেছি সেটাই চালিয়ে যাচ্ছি।’’

বাংলাদেশের সংস্কৃতি, এখানকার রীতি এবং নানা পারিপার্শ্বিকতায় দেখা যায় বাইরের ইস্যু নিয়ে ভেতরে আলোচনা হয়। কানাঘুষা হয়। পক্ষে-বিপক্ষে মত সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটও এরই বাইরে নেয়। ক্রিকেট বোর্ডের অস্থির সময় এবং পরিবর্তনের প্রাক্কালে লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমে কী অবস্থা তা জানার আগ্রহ সবারই। সিমন্সের কাছেই পাওয়া গেল উত্তর, ‘‘ প্রথমত, এটা আমাদের কাজ বা অনুশীলনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, এবং আমরা যে ক্যাম্প করেছি সেটাতেও কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব হয়েছে। খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে হলে তাদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে, কারণ আমি তেমন কিছু দেখতে পাইনি। তারা সব কাজ করেছে, আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে, বরং কেউ কেউ আরও বেশি করেছে। তাই সিরিজের প্রস্তুতিতে তারা যা করার দরকার সবই করছে।’’

নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল খেলোয়াড়দের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন বলে জানালেন সিমন্স, ‘‘হ্যাঁ, আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। স্টাফদের সঙ্গে বসেছিলেন, এরপর দুই দিন আগে ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমেও এসে কথা বলেছেন। তাই হ্যাঁ, কয়েকবার দেখা হয়েছে। খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে। ৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই কমিটির স্বচ্ছ নির্বাচন দিতে হবে। তামিমের জায়গায় ভবিষ্যতে অন্য কেউ আসলে সিমন্সের সভাপতির তালিকায় নতুন কারো নাম যুক্ত হতে পারে।