আগের রাত কিংবা আজকের সকালেও শরিফুল ইসলাম জানতেন না নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সেরা একাদশে তাকে রাখা হবে। জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট এখন আগের রাতেই ক্রিকেটারদের একাদশ জানিয়ে দেয়। মোস্তাফিজুর রহমান খেলবেন, শরিফুল ইসলাম থাকবেন না তা নির্ধারিত হয়েই ছিল।
কিন্তু শুক্রবার সকালে মোস্তাফিজুরের অস্বস্তিতে খুলে যায় শরিফুলের ভাগ্য। দলের সঙ্গে মাঠে আসার পর ওয়ার্মআপ করার সময় ডানপায়ের হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করেন মোস্তাফিজুর। দলকে শেষ মুহূর্তে জানালে, টিম ম্যানেজমেন্ট বেছে নেন শরিফুলকে। একাদশের দরজা খুলে যায় বাঁহাতি পেসারের।
পাকিস্তান সুপার লিগে বল হাতে ভালো করে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। সেই ছন্দ ধরে রাখলেন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে। তপ্ত গরমে ভর দুপুরে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২ মেডেনে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। যেখানে ৪২ বলই ছিল ডট। নিয়ন্ত্রিত বোলিং, কার্যকরী বাউন্স এবং গতির মুগ্ধতায় শরিফুল ছিলেন ধ্রুপদী, অনন্য। মোস্তাফিজুরের চোটে পাওয়া সুযোগ যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বরের পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন শরিফুল। মাঝে বাংলাদেশ ১৫ ওয়ানডে খেললেও একটিতেও ছিলেন না তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, শ্রীলঙ্কা সফর, আফগানিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ এবং সবশেষ মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান সিরিজে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। এ সময়ে মোস্তাফিজুর এবং বাকিরা ভালো করাতে শরিফুলের সুযোগ হয়নি। এবার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন।
নতুন বলে বোলিং শুরু করেন তিনি। শুরুর ২ ওভার করেছিলন প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে। তৃতীয় ওভারে প্রান্ত বদল করে সাফল্যের দেখা পান। ভুগতে থাকা নিক কেলিকে বোল্ড করেন করেন। পাওয়ার প্লে’তে আরও একটি উইকেটের দেখা পেতে পারতেন। যদি সাইফ হাসান উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ নিতে পারতেন।
শুরুর ১০ ওভারে ৫ ওভারে ১ মেডেনে ৯ রানে ১ উইকেট নেন। এরপর ৩২তম ওভারে নিজের তৃতীয় স্পেলে ফেরেন তিনি। শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। ডেন ফক্সক্রফ্ট প্রথম বলেই বাউন্ডারি আদায় করে নেন। দুই ওভার পর শরিফুল দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান। মোহাম্মদ আব্বাসকে লিটনের গ্লাভসবন্দী করান। এই স্পেলে ৩ ওভার বোলিং করেই ১ উইকেট পান তিনি। ডেথ ওভারেও শরিফুল রান আটকে রাখেন। ৪৪তম ও ৪৮তম ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি তিনি। দুই ওভারেই রান দেন ৪ করে।
নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ তেমন অভিজ্ঞ নয়। তবে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার নিয়েই তারা বাংলাদেশে এসেছেন। ১৫ মাস পর ওয়ানডেতে ফিরে ভালো করার যে চ্যালেঞ্জটা শরিফুল নিয়েছেন তাতে বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছেন।