খেলাধুলা

মুজারাবানি: চুক্তিই হয়নি, ভঙ্গ করব কীভাবে?

পাকিস্তান সুপার লিগ থেকে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। আইপিএলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি ও তার প্রতিনিধিরা ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলেই মনে করছেন।

মূলত পিএসএল ১১-এ ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা ছিল মুজারাবানির। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সরে দাঁড়িয়ে যোগ দেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে যেখানে তাকে নেওয়া হয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান দল ছাড়ার পর সেই শূন্যস্থান পূরণে।

চলমান আইপিএলে এখন পর্যন্ত কলকাতা ৬ ম্যাচ খেলেছে। তবে ২৯ বছর বয়সী এই পেসার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ২ ম্যাচে; বাকি ৪ ম্যাচে ছিলেন বেঞ্চে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তার নিষেধাজ্ঞাই।

এক বিবৃতিতে মুজারাবানির প্রতিনিধিরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব ছিলেন। যাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও পিএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়ে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে খেলোয়াড়কে নিয়ে “অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য” সমালোচনার পর তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদের দাবি, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও সেটি ছিল কেবল নীতিগত সমঝোতা, যা নির্ভর করছিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অনাপত্তিপত্রের ওপর। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই সময়ের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি দেওয়া হয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লিগ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় মুজারাবানি কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তার প্রতিনিধিরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে চুক্তিই হয়নি, সেটি ভঙ্গ করার প্রশ্নই ওঠে না।”

একই সঙ্গে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞাকে তারা “অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং পিএসএল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি মূলত একটি প্রশাসনিক জটিলতার ফল। যা আরও বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।