খেলাধুলা

বার্সেলোনাতেই শেষ অধ্যায় চান ফ্লিক

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন হান্সি ফ্লিক। বার্সেলোনা কোচ জানিয়েছেন, তিনি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে চান এবং এখানেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ দেখতে চান। আর সেই পথেই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, বহু প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়।

বর্তমান চুক্তি ২০২৭ পর্যন্ত থাকলেও ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা ইতোমধ্যেই নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিলেও সেই পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, “এটাই আমার পরিকল্পনা। আমি আগেও বলেছি। এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ধাপ। এই মুহূর্তে এখানে থাকতে দারুণ লাগছে।”

২০২৩-২৪ মৌসুমে কোনো শিরোপা ছাড়াই থাকা বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতান ফ্লিক। চলতি মৌসুমে আরও একটি সুপার কাপ যোগ হয়েছে। আর লিগ শিরোপার দৌড়েও তারা এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে, বাকি ৭ ম্যাচ।

তবে ইউরোপে সাফল্য এখনো অধরা। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানের কাছে সেমিফাইনালে হার, আর এবার অ্যাটলেটিকোর কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়। এই ব্যর্থতাই এখন সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। ফ্লিক বলেন, “বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা আমার বড় স্বপ্ন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমার জীবনে দুটি লক্ষ্য। প্রথমত, আমরা যেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতি। আমাদের ভালো দল আছে, তবে ট্রান্সফার মার্কেটে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমি চাই পুরোপুরি নির্মিত ক্যাম্প নউ স্টেডিয়ামে কোচ হিসেবে থাকতে।”

অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে হারের কারণ বিশ্লেষণে ফ্লিক নেতৃত্বের অভাবকেই দায়ী করেছেন। তার মতে, বড় ম্যাচে ছোট ছোট সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দেয়। “এটা খুব কষ্টের ছিল। এমন ম্যাচে মুহূর্ত আর ছোট ছোট বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “গত মৌসুমে ইনিগো মার্টিনেজ ছিল, সে ছিল দারুণ নেতা। এখন আমাদের সেই ধরনের নেতৃত্ব দরকার। মাঠে কথা বলা, নির্দেশ দেওয়া, খেলোয়াড়দের অবস্থান ঠিক করে দেওয়া।”

তবে দলটি তরুণ হওয়ায় সময়ের সঙ্গে উন্নতির আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি। “আমরা শিখব, উন্নতি করব। কিছু খেলোয়াড়কে এসব শেখাতে হবে, এবং আমরা সেটাই করব।”

সব মিলিয়ে, ফ্লিকের পরিকল্পনা পরিষ্কার। বার্সেলোনাকে শুধু দেশীয় সাফল্যে নয়, ইউরোপের শীর্ষেও ফিরিয়ে নেওয়া, আর সেই যাত্রার শেষটা দেখতে চান তিনি ন্যু ক্যাম্পের ডাগআউটেই।