নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে যখন পাকাপাকি অধিনায়ক করা হয় তখন প্রবল সমালোচনা চারিদিকে। কেন মিরাজকে অধিনায়ক করা হচ্ছে তা যেন মানতে পারছিলেন না কেউ!
শুরুর দুই সিরিজেই মিরাজ রাখতে পারেননি নিজের মান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ।
বোর্ড তবুও আশা হারান না মিরাজের ওপর। সেই প্রতিদান দেওয়া শুরু করেছেন অধিনায়ক মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও এবার নিউ জিল্যান্ড…টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ জিতেছেন মিরাজ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের।
ট্রফি নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ উৎসব করার পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। মুখে চওড়া হাসি নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দল সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
টানা তিন সিরিজ জয়ের আনন্দ কতটা? মেহেদী হাসান মিরাজ: অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন।
দলের অর্জনের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনও আছে। শান্তর রানে ফিরে সেঞ্চুরি। লিটনের ফিফটি। মোস্তাফিজুরের ৫ উইকেট। এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? মিরাজ: শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে এটা আমরা ওর থেকে এরকমই আশা করি। খুব ভালো একটা ইনিংস খেলেছে লিটন দাসও। মোস্তাফিজুরও। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় অভিজ্ঞ। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের জন্য খেলছে। আমার কাছে মনে হয় নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শনীর এটাই সেরা সময়।
প্রথম ম্যাচ হারের পর আপনাদের মানসিকতার কীভাবে বদলে গেল। স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হওয়ার কথা। সেখান থেকে ফিরে আসার পরিকল্পনা কী ছিল? মিরাজ: আমরা কিন্তু অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই। ব্যক্তিগতভাবে অধিনায়ক হিসেবে আমি চিন্তা করেছি আমরা যে টুর্নামেন্ট খেলতে যাই প্রথম ম্যাচ হারলেই বাদ, নকআউট খেলা যেভাবে হয় আর কী…সেভাবে জিনিসটা নিয়েছি। প্রথম ম্যাচ হারের পর ওই চিন্তা করে দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে জিতেছি। হারলে সিরিজটি হারাব। জিতলে সুযোগ থাকবে। এভাবেই আমি চিন্তা করেছি।
পুরো সিরিজ জুড়ে নাহিদ রানা ভালো করেছে। তার বোলিং নিয়ে কী বলবেন? মিরাজ: নাহিদ রানা আমরা অবশ্যই ও আমাদের দেশের জন্য একটা অনেক বড় অ্যাসেট আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওকে যত্ন করার জন্য এবং ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অনেক অ্যাডভান্টেজ এবং লাস্ট দুইটা সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে আর অ্যাজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে এটা একটা গ্রেট মোমেন্টাম নিয়ে আসে সবসময় আমার কাছে মনে হয় যে ও যেভাবে বল করছে এটা কন্টিনিউ করতে পারলে বাংলাদেশ টিমের জন্য অনেক অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।
টানা তিনটা সিরিজ জয়ের পর বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার একটা ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী। সঠিক পথেই আছেন নাকি? মিরাজ: অবশ্যই বিশ্বকাপে বাছাই করাটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে না পারি তাহলে ওটা (বিশ্বকাপে বাছাই) আমরা করতে পারব না। আমরা প্রক্রিয়ার ভেতরে আছি। আমরা যদি ম্যাচ জিততে পারি, পারফর্ম করতে পারি তাহলে ওখানে পৌঁছানো সম্ভব। সেরা নয়ে থাকতে হলে আমাদের ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে। তাহলে আমাদের দলের জন্য বিরাট সুবিধা হবে।
তিন সিরিজে আপনি নিজের পারফরম্যান্সে কতটা খুশি? মিরাজ: আমি আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি। আমি চিন্তায় ছিলাম বোলিং নিয়ে। যেভাবে তিনটি ম্যাচে বোলিং করেছি সেভাবেই করতে চেয়েছিলাম। এজন্য বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তিনি আমাকে মানে কাছ থেকে বোলিং করিয়েছেন। যখনই আমার আত্মবিশ্বাস ছিল না তিনি বুষ্ট আপ করেছেন এবং আমাকে প্রত্যেকটা সেশনে আমাকে বোলিং করিয়েছেন এবং আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে প্রস্তুতিটা।
হয়তো আমি অনেক উইকেট পাইনি কিন্তু একটা জায়গায় ধরে বল করার চেষ্টা করেছি। প্রতিপক্ষকে সব সময় চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি একদিক থেকে। নিজের বোলিং নিয়ে আমি খুশি। চিন্তায় ছিলাম কিন্তু ভালো করেছি। ব্যাটিং আমি বিশ্বাস করি ভালো করতে পারি। সেই সামর্থ্য আমার কাছে।