যে মঞ্চে লিটন দাস শেষবার এসে বিশ্বকাপে ভালো করার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেখানেই আজ আসলেন পাঁচ মাস পর। মাঝের সময়টায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ছিলেন আড়ালে। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর। এরপর বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা। কিন্তু খেলতে পারেননি লিটনরা।
একটি বিশ্বকাপ খেলতে না পারার যন্ত্রণা কতোটুকু তা নিশ্চিতভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুলে গেছেন তারা। তবে যে পরিকল্পনা, যাদের পরিকল্পনা তারা আগের জায়গাতে ঠিকই আছেন। সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন মুখ। তাদের নিয়েই আগামীকাল নিউ জিল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আতিথেয়তা দেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়।
এর আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে চনমনে থাকা লিটন এসেছিলেন। ফুরফুরে মেজাজে দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর-
প্রশ্ন: ক্যাপ্টেন, আপনার জন্য এটা নতুন এক যাত্রা, আগেও নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন আবার নতুন করে শুরু। আগের অভিজ্ঞতা থেকে সামনে দুই বছরে দলকে কীভাবে গড়ে তুলতে চান? লিটন দাস: আমাদের মূল লক্ষ্য ২০২৮ বিশ্বকাপ, যেটা এশিয়ার বাইরে হবে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করছি। গত বিশ্বকাপে আমাদের দলীয় বোঝাপড়া ও প্রস্তুতি ভালো ছিল; সেটা ধরে রাখতে চাই।
প্রশ্ন: আপনি এর আগে খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন না। এবার প্রথম সিরিজেই দুইজন নতুন পেসার এসেছেন। ব্যাটিংয়েও কি এরকম কোনো চিন্তা ভাবনা আছে কিনা নতুন খেলোয়াড়কে চেষ্টা করার? লিটন দাস: বোলারদের ক্ষেত্রে জিনিসটা খুবই সহজ যে রোটেট করে খেলানো। যে দুইজন নেই, তারা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ। আমি চাই না তারা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে ইনজুরি করে শেষ হয়ে যাক। সামনে আমাদের ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেক ম্যাচ আছে। টেস্টও আছে। এদিক থেকে চিন্তা করেই আমরা কিছু কিছু জিনিসের পরিবর্তন করা শুরু করেছি। যেহেতু বিশ্বকাপ অনেক দেরি, এখনও পর্যাপ্ত সময় আছে নিজেদের উন্নতি করার। ম্যাচ খেলানোর একটা ভালো সুযোগ এই মুহূর্তে।
প্রশ্ন: শেষ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা থেকে দল কি এগিয়ে যেতে পেরেছে? লিটন দাস: অবশ্যই। এরপর আমরা আরও টুর্নামেন্ট খেলেছি। যেখানে খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার। সবচেয়ে বড় জিনিস কি, যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রত্যেকটা ম্যাচই আপনার জন্য, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা ওভাবেই চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয় দরকার, জয়ের যে মানসিকতা আছে সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।
প্রশ্ন: ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট বেড়েছে। এটাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা আছে? লিটন দাস: অবশ্যই চাই। তবে শুরুতে চাপ দিতে চাই না। কয়েকটা ম্যাচ খেললে সবাই নিজের জায়গা বুঝে নেবে। সামনে ধারাবাহিক সিরিজ আছে, এটা ইতিবাচক দিক।
প্রশ্ন: ২০২৮ পর্যন্ত নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে? লিটন দাস: সত্যি কথা বলতে খুব একটা আলোচনা হয়নি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে তারা মনে করেছে যোগ্য প্রার্থী এখানকার জন্য। আমি আমার কাজ করার চেষ্টা করব। দল যেভাবে ছাব্বিশের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে। প্রস্তুতি ওইভাবেই থাকবে।
প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিতে টপ অর্ডারে এবং ছয় নম্বর পজিশন, এই দুই জায়গায় রান হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লে’ ব্যবহার করা এবং শেষ দিকে রান বাড়িয়ে নেওয়া। সাইফ হাসান ওপেনিংয়ে। শামীম শেষ দিকে। কিন্তু তারা ফর্মে নেই। এটা নিয়ে কী উদ্বিগ্ন? লিটন দাস: আমার কাছে মনে হয় না খুব একটা বড় চিন্তা তাদের ফর্ম নিয়ে। যদিও বা অনেকদিন পরে আবার টি-টোয়েন্টি খেলছি, আমাদের সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং থাকবে। সবার পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করবে। আমার মনে হয় কয়েকটা ম্যাচ গেলে এই জিনিসটা ওভারকাম হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: দলের ব্যাটিং গভীরতা কেমন মনে হচ্ছে? লিটন দাস: আমার মতে ভালো। নিয়মিত ছয়জন ব্যাটার খেলছে, সঙ্গে অলরাউন্ডাররাও ব্যাট করতে পারে। দলটা ব্যালান্সড।
প্রশ্ন: ইমনকে কোন পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা? লিটন দাস: আপাতত মিডল অর্ডারে ভাবছি।
প্রশ্ন: উইকেট টি-টোয়েন্টির জন্য কতটুকু আদর্শ। নতুন যে দুইজন পেসার আছেন দলে, তাদের অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু? লিটন দাস: উইকেট দেখেছি। উইকেট দুই দলের জন্যই সমান থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বল খেলা হচ্ছে বলতে পারছি না, কিন্তু দেখে মনে হয়েছে ভালো উইকেট হবে। নতুন যে কিউরেটর আমাদের প্রোভাইড করছে, খুব ভালো ভালো উইকেট পাচ্ছি অনেকদিন ধরে। আশা করছি এটাও ভালো উইকেট হবে।
প্রশ্ন: নিউ জিল্যান্ড দলে অনেক নতুন মুখ আছে। এই সিরিজটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? লিটন: নিউ জিল্যান্ড বড় নাম। শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তারা সেমিফাইনাল খেলেছে। তাদের কিছু নতুন খেলোয়াড় থাকতে পারে, কিন্তু দল হিসেবে তাদের পটেনশিয়াল অনেক। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এতদিন যেভাবে বড় দলগুলোর সাথে খেলেছি, সেভাবেই সেরা ক্রিকেটটা খেলা।
প্রশ্ন: কালকের ম্যাচে টার্গেট কী থাকবে? লিটন: জেতার চেষ্টা করব ভাইয়া।